দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্বজুড়ে মহামারীর আকার নিয়েছে নোভেল করোনাভাইরাস। এর প্রভাব পড়েছে অর্থনীতির উপরেও। এই পরিস্থিতিতে চিনে উৎপাদন বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাপান। এই কাজের জন্য চিনে থাকা জাপানি কোম্পানিগুলিকে ১৭ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সাহায্য ঘোষণা করেছে জাপান।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, চিন থেকে জাপানে উৎপাদন সরানোর জন্য ১৬ হাজার কোটি ও অন্যান্য দেশে উৎপাদন সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য ১ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে জাপান।
মাসখানেক আগেই জাপান সফরে যাওয়ার কথা ছিল চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিংপিংয়ের। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই সফর বাতিল করা হয়েছে। তিনি কবে ফের সফরে আসতে পারবেন সে ব্যাপারে কোনও নিশ্চয়তা নেই। এই পরিস্থিতিতে দুই দেশের আভ্যন্তরীণ সম্পর্কে পরিবর্তন হয়েছে বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
এমনিতে জাপানের সঙ্গে সবথেকে বেশি ব্যবসা করে থাকে চিন। কিন্তু চিনে করোনা সংক্রমণের পরে ফেব্রুয়ারি মাস থেকে চিনা রফতানির পরিমাণ অর্ধেক হয়ে গিয়েছে। ফলে জাপানি কোম্পানিগুলিও সমস্যায় পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে গত মাসে জাপানি সরকারের এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, চিনের উপর নির্ভরশীলতা কমাতে হবে। ফলে জাপান ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশে উৎপাদন সরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। করোনা মোকাবিলায় ইতিমধ্যেই ৭৫ লক্ষ কোটি টাকার প্যাকেজ ঘোষণা করেছে জাপান।
এই সিদ্ধান্তের ফলে জাপানের প্রাইম মিনিস্টার শিনজো অ্যাবের চিনের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক গড়ে তোলার প্রক্রিয়া যে ধাক্কা খাবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। কিন্তু বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, “আমরা অর্থনৈতিক বিকাশ চালু রাখার জন্য যতটা সম্ভব করছি। আমরা আশা করছি এই পরিস্থতিতে চিনের মতো অন্যান্য দেশও যথাযথ ব্যবস্থা নেবে যাতে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির উপর বেশি প্রভাব পড়তে না পারে। সেইসঙ্গে চাহিদা ও জোগান যেন একই থাকে সেদিকেও লক্ষ্য দিতে হবে সবাইকে।”
চিনে করোনা সংক্রমণের প্রথমের দিকে পরিস্থিতি অবশ্য এরকম ছিল না। জাপান মাস্ক থেকে শুরু করে অন্য প্রোটেকটিভ গিয়ার সরবরাহ করেছিল চিনে। বেজিংয়ের তরফে জাপানের প্রশংসাও করা হয়েছিল। ইতিমধ্যেও জাপানের তরফে ‘অ্যাভিগান’ নামের একটি ড্রাগ আবিষ্কার করা হয়েছে। এই ড্রাগ করোনাভাইরাসের প্রতিষেধক হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে দাবি করেছে চিন।
অন্যদিকে আবার এই ভাইরাস ছড়ানোর জন্য জাপানের একটা অংশ দায়ী করেছে চিনকে। প্রথমেই চিন থেকে পর্যটক আসায় নিষেধাজ্ঞা জারি না করায় শিনজো অ্যাবেরও সমালোচনা করেছেন অনেকে।
এরমধ্যে জাপানের জলভাগে নজরদারি শুরু হয়েছে চিন। জানা গিয়েছে, এই করোনা সংক্রমণের পরিস্থিতিতেও চিনা জাহাজ ক্রমাগত জাপানের জলভাগে টহল দিয়েছে। এমনকি চারটি চিনা জাহাজ জাপানি জলভাগে প্রবেশ করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে জাপান।