দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুমাত্রার ওরাংওটাং, ক্রমশ বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী থেকে। সংখ্যা এতই কমে গিয়েছে যে এই বিশেষ প্রজাতির ওরাংওটাং-কে 'ক্রিটিক্যালি এনডেনজার্ড স্পিসিস' হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন গবেষকরা।
তবে অবশেষে এই বিলুপ্ত প্রায় গোষ্ঠীর মধ্যে জন্ম নিয়েছে নতুন এক ওরাংওটাং। ছোট্ট ছানার এখনও লিঙ্গ নির্ধারণ করা হয়নি। কিন্তু মেয়ে হোক বা ছেলে, খুশিতে মেতেছেন New Orleans-এর Audubon Zoo কর্তৃপক্ষ। চিড়িয়াখানার তরফে জানানো হয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের বাসিন্দা সুমাত্রান ওরাংওটাং ফেলিজ ও গত বছর জার্মানি থেকে এই চিড়িয়াখানায় আসা জাম্বি জন্ম দিয়েছে তাদের সন্তানের।
বিশ্ব জুড়ে যথেচ্ছ ভাবে চলছে অরণ্য নিধন। ক্রমশই বাড়ছে চোরাশিকারিদের দাপট। ফলে লুপ্ত হতে বসেছে এই সুমাত্রান ওরাংওটাং-রা। লম্বা লাল চুলওয়ালা এই গ্রেট এপস-দের সংখ্যা এখন সারা দুনিয়ায় চোদ্দ হাজারেরও কম। আর যে ক'টি আছে তারাও বিলুপ্তির দিকেই এগোচ্ছে। এমন সময় শিশু সুমাত্রান ওরাংওটাং-এর জন্ম যে দারুণ খুশির খবর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। বন্যপ্রাণ নিয়ে গবেষণাকারী বিজ্ঞানীরাও এই শিশু ওরাংওটাং-এর জন্মে দারুণ খুশি।
ইতিমধ্যেই Audubon Zoo কর্তৃপক্ষ মা এবং ছানার একটি ছবি প্রকাশ করেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে মায়ের বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে রয়েছে সদ্যোজাত। পরম মমতায় সন্তানকে বুকে আগলে রেখেছে মা-ও। মায়ের কোল যে বরাবরই বড় শান্তির, বড় নিরাপত্তার এবং তা যে মানুষ এবং পশুপাখির ক্ষেত্রে আলাদা নয়, এই ছবিই তার জ্বলন্ত উদাহরণ। হোক না সে ওরাংওটাং, তবু মা তো। তাই স্নেহের কিন্তু কমতি নেই। এর আগেও সন্তানের জন্ম দিয়েছে ফেলিজ। ২০০৯ সালে একটি মেয়ে হয় তার নাম মেনারি।
চলতি সপ্তাহের বুধবারই জন্ম নিয়েছে এই নতুন ওরাংওটাং। নিয়ম অনুযায়ী সন্তান প্রসবের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা মা ওরাংওটাং শেখে কী ভাবে যত্ন নিতে হবে ছানার। এ সময় কারও ধারে কাছে ঘেষাও বারণ। নিজে নিজেই বাচ্চার পরিচর্যা করে মা ওরাংওটাং। চিড়িয়াখানার তরফে জানানো হয়েছে যথেষ্ট দায়িত্ববান মা ফেলিজ। আগামি দিনেও সে যে যত্নের সঙ্গেই নিজের সন্তানের দেখভাল করবে এ ব্যাপারে নিশ্চিত জু কর্তৃপক্ষ। আপাতত তাদের উপর কড়া নজর রেখেছে কর্তৃপক্ষ। যাতে কোনও অঘটন না ঘটে, সেই জন্যই এই সতর্কতা।