দ্য ওয়াল ব্যুরো: মোটরবাইকের টায়ার আটকে গিয়েছে এক পেল্লাই কুমিরের গলায়। ভালভাবে শ্বাস নিতে না পেরে ছটফট করছে বেচারা। বন দফতরের তরফে চেষ্টা করা হয়েছে বহুবার। তবে লাভ হয়নি কিছুই। কোনওভাবেই কুমিরের গলা থেকে ওই টায়ারের ফাঁস খোলা যায়নি। উপায় না দেখে অবশেষে কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করছে কুমিরের গলা থেকে টায়ার খুলে দিতে পারলেই মিলবে মোটা অঙ্কের পুরস্কার। এই ঘটনা সুদূর ইন্দোনেশিয়ার।
পুরস্কারের লোভে অনেকেই অবশ্য এমন ভয়ঙ্কর কাজের জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। তবে ভীষণদর্শন ১৩ ফুটের (৪ মিটার) কুমিরকে দেখার পর সকলেরই প্রায় পিলে চমকে যাওয়ার পালা। মধ্য সুলাওয়েসি প্রদেশের লবণাক্ত নদী পালুর স্থায়ী বাসিন্দা এই কুমির। স্থানীয় কুমির সংরক্ষণ কেন্দ্র থেকে লোক এসে বহুবার চেষ্টা করেছে তার গলার মোটা টায়ার খুলে ফেলার। তবে বিফলে গিয়েছে সবকিছুই। গলায় টায়ার আটকে থাকায় কুমিরের হাঁসফাঁস ক্রমশ বেড়েই চলেছে।
২০১৬ সাল থেকে এই কুমিরের গলায় আটকে রয়েছে মোটরবাইকের মোটা টায়ার। বনকর্মীরা আশঙ্কা করেছেন আর কয়েকদিন এমন অবস্থায় থাকলে মারা যেতে পারে ওই কুমির। তাই জলের অন্যতম ভয়ানক প্রাণীকে বাঁচাতে এবার পুরস্কার ঘোষণা করেছেন তাঁরা। বছর চারেক আগে পালু নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়ানোর সময়েই নজরে আসে কুমিরের গলায় আটকে থাকা টায়ার। এরপর ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্প হয়েছে। হানা দিয়েছে সুনামিও। সব প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকেই প্রাণে বেঁচে গিয়েছে এই সুবিশাল কুমির। তবে আলগা হয়নি তার গলায় আটকে থাকা টায়ার।
অগত্যা কুমিরটিকে বাঁচাতে এবার পুরস্কার ঘোষণা করার এই উদ্যোগ নিয়েছে সুলাওয়েসির ন্যাচারাল রিসোর্স কনজারভেশন অফিস (BKSDA)। এই সংস্থার তরফেই ঘোষণা করা হয়েছে যিনি কুমিরের গলায় আটকে থাকা এই মোটরবাইকের টায়ার খুলে দিতে পারবেন তাঁকে মোটা টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে। সংস্থার চিফ হাসমুনি হাসমার জানিয়েছেন, "মজা করার জন্য কেউ আসবেন না। এটা খেলার জিনিস নয়। যাঁরা পাকা হাতের লোক, সত্যিই কাজটা করতে পারবেন, তাঁরাই আসুন।" স্থানীয় বাসিন্দারাও যেন এই কুমিরের আশেপাশে না ঘেঁষে এবং তাকে বিরক্ত না করে সেজন্যও আর্জি জানিয়েছেন হাসমার।