দ্য ওয়াল ব্যুরো: রবিবার ইস্টারের প্রার্থনা চলাকালীন রক্তাক্ত হয়েছে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো। সকাল থেকে আটটি ধারাবাহিক বিস্ফোরণে নিহত হয়েছেন ৩৫৯ জন। আহত ৫০০-র বেশি। এই বিস্ফোরণের পরেই প্রশ্ন উঠেছিল, প্রশাসনের কাছে কি খবর ছিল না এত বড় বিস্ফোরণের। জানা গিয়েছে, শ্রীলঙ্কার পুলিশ প্রধান ১০ দিন আগেই সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বার জানা গেল, এই হামলার ব্যাপারে শ্রীলঙ্কা সরকারকে সতর্ক করেছিল দিল্লিও। ভারতের গোয়েন্দা কর্তাদের তরফে বিস্ফোরণের আগেই সতর্ক করা হয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। একবার নয়, তিনবার। কিন্তু তারপরেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
ভারতের গোয়েন্দা সূত্রে খবর, প্রথমবার ৪ এপ্রিল দিল্লির তরফে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় শ্রীলঙ্কা প্রশাসনের কাছে। এই সতর্কবার্তায় বলা হয়, ডিসেম্বর মাসে ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি ( এনআইএ )-র কাছে জঙ্গি গোষ্ঠী ন্যাশনাল তৌহিত জামাতের কিছু ভিডিয়ো এসেছে। এই ভিডিয়োতে দেখা যাচ্ছে এনটিজে প্রধান মৌলবি জাহরান বিন হাশিম কিছু নির্দেশ দিচ্ছেন এই জঙ্গি সংগঠনের শ্রীলঙ্কার শাখাকে। এই সতর্কবার্তায় আরও জানানো হয়, শুধুমাত্র সে দেশের বিভিন্ন চার্চই নয়, কলম্বোর ভারতীয় হাই কমিশনও জঙ্গিদের নিশানায় থাকতে পারে।
দ্বিতীয় সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বিস্ফোরণের আগের দিন রাতে। এই সতর্কবার্তায় আরও নির্দিষ্ট করে সম্ভাব্য স্থানের কথা বলা হয়েছিল, যেখানে আক্রমণ হতে পারে। শেষ সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছিল বিস্ফোরণের ঘণ্টা দুয়েক আগে। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে বেশ কিছুদিন ধরে তথ্য সংগ্রহের পরই দিল্লি নিশ্চিত হয়েছিল, শ্রীলঙ্কায় বড়সড় নাশকতার চেষ্টা হতে পারে। শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিঙ্ঘেও স্বীকার করে নিয়েছেন, ভারতের তরফে সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন, “ভারত আমাদের সতর্ক করেছিল, কিন্তু আমাদের পদক্ষেপ নিতে দেরি হয়ে গিয়েছিল। ঠিক সময়ে আমাদের গোয়েন্দা বিভাগকে সতর্ক করা যায়নি।”
ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা সূত্রে খবর, জঙ্গি নেতা হাশিমের যে ভিডিয়ো পাওয়া গিয়েছিল, সেই ভিডিয়োতে দেখা গেছে তিনি শ্রীলঙ্কা, তামিলনাড়ু ও কেরলের মুসলিম যুবকদের কাছে আবেদন করেছেন, এই অঞ্চল জুড়ে ইসলামি শাসন তৈরি করার। এই ভিডিয়ো দেখার পর ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালিসিস উইং ( RAW ) আরও তদন্ত করে। গত বছর সেপ্টেম্বর মাসে কোয়েম্বাটোরে হিন্দু নেতাদের উপর হামলার আগেই ছ’জন ন্যাশনাল তৌহিত জামাত জঙ্গিকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এই তথ্য সংগ্রহের পরেই সতর্ক করা হয়েছিল শ্রীলঙ্কাকে। কিন্তু সে দেশের প্রশাসনের তৎপরতার অভাবে নাশকতা এড়ানো যায়নি। বিস্ফোরণের দু’দিন পর অবশ্য দায় স্বীকার করে আইসিস।
তবে ভারতের তরফে জানানো হয়েছে, এখনও নাশকতার সম্ভাবনা আছে। কারণ ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার কাছে খবর রয়েছে, এখনও নাশকতা ছড়ানোর লক্ষ্যে বেশ কিছু যুবক শ্রীলঙ্কায় রয়েছে। তাদের খোঁজে চলছে জোরদার তল্লাশি।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/rahul-gandhi-cites-murder-case/