
শেষ আপডেট: 5 August 2020 02:35
জানা গেছে, শহরের বন্দর এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটেছে। বিস্ফোরণের কয়েক মুহূর্ত পরেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে একাধিক ছবি-ভিডিও। তাতে দেখা গেছে, বন্দর এলাকায় অনেক বহুতল ভেঙে পড়েছে। অনেক বাড়ি মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এই বিস্ফোরণের বিষয়ে লেবাননের প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব জানিয়েছেন, বেইরুট পোর্টের ধারে একটি গুদামে ২৭৫০ টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট মজুত করা ছিল। কৃষিতে সার হিসেবে ব্যবহার করার জন্য সেটা মজুত ছিল। সেই অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটেই বিস্ফোরণ হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, “সবদিক থেকেই এটা একটা ভয়ঙ্কর বিপর্যয়। যেটা হয়েছে তাকে কোনও মতেই রেয়াত করা হবে না। এই ঘটনার জন্য যারা দোষী তাদের শাস্তি দেওয়া হবে।”
লেবাননের নিরাপত্তা প্রধান আব্বাস ইব্রাহিম জানিয়েছেন, ওই গুদামে বিস্ফোরক পদার্থ মজুত করে রাখা হয়েছিল। বছর খানেক আগে তা মজুত করে রাখা হয়। সেখানেই এই বিস্ফোরণ হয়েছে।ভিডিওয় দেখা গেছে, বিস্ফোরণের পরে ঘন ধোঁয়ার মেঘ কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠছে। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, এ কথা স্পষ্ট।
https://twitter.com/RealSarahIdan/status/1290693873006600197
বেইরুট সমুদ্র বন্দরের আশেপাশের এলাকায় বিস্ফোরণটি ঘটলেও এর তীব্রতা ছড়িয়েছে বহুদূর। কয়েক কিলোমিটার দূর পর্যন্ত ঘরবাড়ির কাচ ভেঙে গেছে। আশপাশের সমস্ত দোকান ধ্বংস হয়েছে। ২৪০ কিলোমিটার দূরে ভূমধ্যসাগরের সাইপ্রাস দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত শোনা গিয়েছে বিস্ফোরণের শব্দ।
ওই এলাকার বাসিন্দা এক প্রত্যক্ষদর্শীর কথায়, “বিকট শব্দ শুনলাম, আর ঘন কালো ধোঁয়ার মেঘ। ব্যালকনিতে বেরোতেই আরও একটি বিস্ফোরণ, একরকম ছিটকে গেলাম আমরা। এমনভাবে গোটা বাড়িটা কাঁপছিল, যেন মনে হচ্ছিল ভূমিকম্প হয়েছে।”
গোটা এলাকায় অসংখ্য গাড়ি দগ্ধ হয়ে গেছে। রাস্তায় পড়ে রয়েছে ধ্বংসের চিহ্ন। অ্যাম্বুল্যান্স ছুটোছুটি করতে থাকে ঘটনার পরেই। গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তাবাহিনী। চারদিকে ছোটাছুটি করতে দেখগা যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের। রক্তাক্ত-আহতদের নিয়ে সাহায্যের আশায় অনেক হাসপাতালে যাওয়ার চেষ্টা করতে থাকেন। সবই ধরা পড়ে ছবি- ভিডিওতে।
ভারতীয় দূতাবাসের তরফে টুইট করা হয়েছে সাহায্য বার্তা দিয়ে।
https://twitter.com/IndiaInLebanon/status/1290690826415243264
ইজরায়েল-লেবানন সীমান্তে হিজবুল্লা জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে ইজরায়েলের সেনার সংঘর্ষ কয়েক দিন ধরেই চলছিল। যদিও হিজবুল্লা দাবি করেছে, পুরো বিষয়টিই ইজরায়েলের চক্রান্ত। সোমবার রাত থেকে সীমান্তে লড়াইও শুরু হয়। তবে আজকের বিস্ফোরণ কয়েক দিন ধরে চলতে থাকা সংঘর্ষের সঙ্গে কোনও ভাবে যুক্ত কিনা, তার কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। যদিও কয়েকটি সূত্র এই বিস্ফোরণের পরে ইজরায়েলের দিকে আঙুল তুলেছে।