দ্য ওয়াল ব্যুরো: মার্চ মাস থেকে বিশ্বজুড়ে করোনা সংক্রমণ মহামারীর আকার নেওয়ার পর আমেরিকার স্বাস্থ্য সংস্থা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছিল, কেউ আক্রান্ত হলে তাঁকে অন্তত ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, যাঁরা আক্রান্ত হচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশের শরীরে উপসর্গ নেই, বা মৃদু উপসর্গ রয়েছে। তাই এই নিয়মে বদল আনছে সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন। বলা হচ্ছে, উপসর্গহীন আক্রান্তদের ১৪ নয়, ১০ দিন আইসোলেশনে থাকলেই চলবে।
গত শুক্রবার এই সংস্থা নিজেদের স্বাস্থ্যবিধিতে বদল এনেছে। সেখানে বলা হয়েছে, বহুদিন ধরে এই ভাইরাসকে স্টাডি করার পরেই এই বদল আনছে তারা। আগে কেউ আক্রান্ত হলে তাঁকে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হত। তারপর দু’বার তাঁর টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসার পরেই তাঁকে ছুটি দেওয়া হত। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এমনিতেই যতটা দরকার, ততটা পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। তারমধ্যে একজনের জন্য দু’বার করে পরীক্ষা করা অর্থহীন। তাই যেসব আক্রান্তদের দেহে উপসর্গ নেই, তাঁদের ১৪ দিনের জায়গায় ১০ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে।
সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন জানিয়েছে, গত ছ’মাস ধরে আমেরিকায় দেখা গিয়েছে একটা বড় অংশের আক্রান্তদের শরীরে ৪ থেকে ৯ দিনের বেশি ভাইরাস থাকছে না। তার মধ্যেই তাঁরা সুস্থ হয়ে উঠছেন। তাই যাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক তাঁদেরই হাসপাতালে ভর্তি করে ভাল করে চিকিৎসা করা উচিত বলে জানিয়েছে তারা। যাঁদের শরীরে উপসর্গ মারাত্মক ও অন্যান্য শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের যতদিন দরকার ততদিন হাসপাতালে কিংবা পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে বলে জানিয়েছে এই সংস্থা।
বিভিন্ন দেশে অবশ্য আইসোলেশনের নিয়ম আলাদা। যেমন সুইৎজারল্যান্ডে ১০ দিন আইসোলেশনে রাখা হয়। তাইওয়ানের সরকার নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, ভিয়েতনাম প্রভৃতি কম আক্রান্ত দেশ থেকে আসা পর্যটকদের সাত দিন আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অন্যদিকে বেশি আক্রান্ত দেশ থেকে এলে ১৪ দিন আইসোলেশনে থাকতে হবে সেখানে। তবে বেশিরভাগ দেশেই এই সংখ্যাটা ১৪ দিন রয়েছে।
নিজেদের নির্দেশিকায় বদল করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু। জুন মাসে বলা হয়, উপসর্গহীন আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ১০ দিনের আইসোলেশন ও উপসর্গযুক্ত আক্রান্তদের ক্ষেত্রে ১৩ দিনের আইসোলেশন রাখা উচিত। উপসর্গহীনদের ক্ষেত্রে একই নির্দেশিকা এবার দিল সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন।