
শেষ আপডেট: 23 January 2020 11:52
এমন ভয়ানক ছবিই গত কয়েকদিন ধরে ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়ায়। বলে না দিলে বোঝা দায় যে প্রাণীগুলো সিংহ। উধাও হয়েছে তাগড়াই চেহারা, সোনালি কেশর, পশুরাজের বিক্রম। তার বদলে দীর্ঘদিন অনাহারে থাকার কারণে একেবারে মরতে বসেছে এই সিংহগুলি। রীতিমতো ধুঁকছে। পর্যাপ্ত খাবার না পাওয়ায় শরীরে বাসা বেঁধেছে অপুষ্টি জনিত নানা রোগ।
সুদানের একটি চিড়িয়াখানায় মরতে বসেছে এই পাঁচটি সিংহ। সম্প্রতি গোটা ব্যাপারটা নজরে আসে ওসমান সালিহ নামে এক পর্যটকের। সিংহগুলোকে দেখে আঁতকে ওঠেন তিনি। সেই মুহূর্তেই সিদ্ধান্ত নেন যেভাবেই হোক বাঁচাতে হয় এই সিংহদের। নেট দুনিয়ায় শুরু হয় ওসমানের #SudanAnimalRescue ক্যাম্পেন। সুদানের খারতোমস অল-কুরেশি পার্কের এই সিংহদের কীভাবে বাঁচানো যায় সেই চেষ্টাতেই ময়দানে নেমেছেন ওসমান।
খাবারের অভাবই যে এতগুলো সিংহকে তিলে তিলে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে সেটা স্পষ্ট। কিন্তু কেন এত খাদ্যাভাব সুদানের এই পার্কে? খারতোমস মিউনিসিপ্যালিটিই মূলত পরিচালনা এবং পর্যবেক্ষণ করে এই পার্ক। তবে দীর্ঘদিন ধরেই এখানে প্রাণীদের জন্য পর্যাপ্ত খাবার পাওয়া যাচ্ছে না। সুদানের আর্থিক মন্দাই এর অন্যতম কারণ। পার্কের কর্মীদের অনেকেই নিজেদের টাকায় পশুপাখিদের জন্য খাবার কিনে আনেন। কিন্তু সেভাবেই বা আর ক'দিন চলবে। ফলে একটা সময়ের পর টান পড়েইছে খাবারে। তার জেরেই দীর্ঘদিন ধরে প্রায় অনাহারে রয়েছে এই সিংহগুলো।
পার্কের পরিচালন কর্তৃপক্ষ অবশ্য সরাসরি পার্কের কর্মী এবং রক্ষীদেরই এই দুরবস্থার জন্য দায়ী করেছে। তারা সাফ জানিয়েছে যে, পশুপাখির খাঁচা পরিষ্কার করেন না কর্মীরা। তাদের ঠিকমতো খেতেও দেন না। আর্থিক মন্দার সমস্যা আছে অবশ্যই। কিন্তু সেটাকে অজুহাত বানিয়ে পার্কের প্রাণীদের দেখভালে অবহেলা করেন কর্মীরা। দীর্ঘদিনের অযত্ন, অপর্যাপ্ত খাবার, নোংরা খাঁচা----সবের ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে সিংহগুলো। বাঁচাতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন সঠিক চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টি।
বিশ্বের দরবারে তাই এই সিংহদের বাঁচানোর আহ্বান জানিয়েছেন ওসমান। তিনি জানিয়েছেন, ইতিমধ্যেই বিভিন্ন ওয়াইল্ডলাইফ অর্গানাইজেশন, পশু চিকিৎসক, এবং প্রাণীকল্যাণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। বিভিন্ন দেশের তরফে সাহায্যের হাতও বাড়িয়েছে বিভিন্ন সংস্থা। তবে একটি সিংহি এর মধ্যেই মারা গিয়েছে বলে খবর। অন্যদিকে জানা গিয়েছে, সুদানের পার্কে থাকা মৃতপ্রায় এই সিংহরা সকলেই প্রজাতিতে 'আফ্রিকান লায়ন'। এই আফ্রিকান লায়ন আজকাল বিলুপ্ত প্রায় প্রাণীর তালিকায় পড়ে। তাই দ্রুততার সঙ্গে সঠিক চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত পুষ্টির মাধ্যমে এই সিংহদের বাঁচানোর চেষ্টায় ব্রতী হয়েছেন ওসমান। আর তাঁর সঙ্গে যোগ দিয়েছেন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ।