
শেষ আপডেট: 10 August 2018 01:45
এই দ্বীপটি সম্পর্কে আর একটি চমকপ্রদ তথ্য হল, এটি কোনও পৌরসভা বা প্রশাসনের অধীনে নেই। যা বর্তমান যুগে কল্পনারও অতীত।তবে দ্বীপটিতে রয়েছে অসাধারণ কয়েকটি সমুদ্র সৈকত।যার অনেকগুলি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ সৈকতগুলির অন্যতম বলেও স্বীকৃতি পেয়েছে। দ্বীপটিতে রয়েছে ডলফিন, তিমি, বিরল প্রজাতির পাখি এবং কচ্ছপ-সহ নানা ধরনের প্রাণী। এসব প্রাণী সংরক্ষণের জন্যেই দ্বীপটির জনসংখ্যা কম রাখার ব্যাপারে ব্রাজিলের সরকার সব সময়ে নজর রাখে।
প্রশ্ন হল, তিন হাজার অধিবাসী থাকা সত্বেও কেন ১২ বছর পরে শিশুর জন্ম হলো! আসলে,দ্বীপটিতে সন্তান প্রসব করা নিষিদ্ধ ছিলো। তাই এত দিন এই ভূখণ্ডে কোনও শিশুর জন্ম হয়নি। এই নিষেধাজ্ঞার কারণ হলো, দ্বীপটির একমাত্র হাসপাতালে মায়েদের জন্য প্রসূতি বিভাগই নেই। প্রসবে জটিলতা দেখা দিলে সে সমস্যার কোনও সমাধান ওই হাসপাতালে সম্ভব নয়। তাই বিপদ এড়াতে গর্ভবতী মায়েদের সন্তান প্রসবের জন্য দ্বীপের বাইরে কোনও হাসপাতালে পাঠানো হয়ে থাকে।
এমন দ্বীপে সন্তানের জন্ম দিয়েছেন ২২ বছরের এক তরুণী। তিনি জানান, তিনি জানতেনই না যে তিনি গর্ভবতী। বলেন, "হঠাৎ আমার খুব পেট ব্যথা করতে লাগলো। টয়লেটে যাওয়ার পর দেখি দু পায়ের মাঝখান দিয়ে কী যেন একটা বেরোচ্ছে।" তিনি চিৎকার করে তাঁর স্বামীকে ডাকেন। তাঁর স্বামী এসে মা ও শিশুকন্যা দু'জনকেই সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করেন। তিনিই প্রথমে পরিচর্যার কাজে হাত লাগান।পরে গোটা পাড়া, এখন গোটা দ্বীপ।
কিন্তু ফার্নান্দো-ডি-নরোনহা দ্বীপের আইন অনুযায়ী দ্বীপটিতে সন্তানের জন্ম দিয়ে আইনলঙ্ঘন করেছেন তরুণী। তবে তা নিয়ে দ্বীপের বাসিন্দাদের, এমন কি স্থানীয় কর্তৃপক্ষেরও কোনও মাথা ব্যথা নেই। গোটা দ্বীপ নেমে পড়েছে শিশুটির দেখভালে। সঙ্গে চলছে দেদার খানা পিনা আর নাচগান। শিশুকন্যাটিকে নিয়ে নিজেদের কাজকর্ম শিকেয় তুলেছেন তাঁরা। কেউ দিচ্ছেন খেলনা, কেউ বেবি ফুড, কেউ জামাকাপড়। কোলে কোলে ঘুরছে সদ্যোজাত শিশুকন্যাটি। কিন্তু তার বাবা-মা একটু চিন্তাতেও আছেন ,আইন লঙ্ঘন করার জন্য কী শাস্তি অপেক্ষা করে আছে তাই নিয়ে।
কিন্তু এখন আনন্দের সময় আনন্দ করে নিতে হবে। আনন্দে যেন ফাঁক না থাকে। সত্যি, এই না হলে ব্রাজিল!