ক্লিওপেট্রার তুলতুলে ত্বকের রহস্য ছিল গাধার দুধ! খেলে কী হয় জানেন?
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরুর দুধ কিংবা মোষের দুধের কথা তো সকলেই শুনেছেন। ছাগলের দুধের কথাও জানেন। এই তিন রকমের দুধই চেখেও দেখেছেন অনেকে। কিন্তু তা বলে গাধার দুধ! চেখে দেখা তো দূরে থাক, কস্মিনকালে এমন কথা শোনেনওনি অনেকেই। যে প্রাণীর নামের সঙ্গেই জড়
শেষ আপডেট: 25 January 2019 12:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গরুর দুধ কিংবা মোষের দুধের কথা তো সকলেই শুনেছেন। ছাগলের দুধের কথাও জানেন। এই তিন রকমের দুধই চেখেও দেখেছেন অনেকে। কিন্তু তা বলে গাধার দুধ! চেখে দেখা তো দূরে থাক, কস্মিনকালে এমন কথা শোনেনওনি অনেকেই। যে প্রাণীর নামের সঙ্গেই জড়িয়েই রয়েছে একটা তাচ্ছিল্যের ভাব, সেই প্রাণীর দুধই নাকি আজকাল রমরমিয়ে বিক্রি হচ্ছে বাজারে। বেশ ভালো দাম দিয়েই তা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ক্রেতারা।
কিন্তু গাধার দুধের হঠাৎ এমন ডিম্যান্ডের কারণটা কী?
এদেশে নয়, বিদেশেই বেড়েছে এই ডিম্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকার বাসিন্দারা এখন মেতেছেন গাধার দুধের চাহিদায়। কথিত আছে মিশরের রানি ক্লিওপেট্রা নাকি এই গাধার দুধ দিয়েই স্নান করতেন। কারণ গাধার দুধ দিয়ে স্নান করলে ত্বক নাকি হয় একেবারে তুলোর মতো নরম, তুলতুলে ও মোলায়েম। তাই আপনার যদি মনে হয় ত্বক খানিক খসখসে লাগছে, তাহলে কুছ পরোয়া নেহি। স্নান করে ফেলুন গাধার দুধ দিয়ে।
৯২টি গাধাকে উদ্ধার করে দক্ষিণ আফ্রিকাতেই প্রথম তৈরি হয় গাধার দুধের ডেয়ারি ফার্ম। তবে দক্ষিণ আফ্রিকার পাশাপাশি এখন ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও বাড়ছে এই দুধের চাহিদা। এমনতেই ইউরোপের বিভিন্ন জায়গায় চকলেট তৈরির ক্ষেত্রে এই দুধ ব্যবহারের চল আগেই ছিল। আর যেকটা জায়গা বাকি ছিল এখন সেখানেও মানুষের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে গাধার দুধ। খাওয়া থেকে স্নান সবেতেই গাধার দুধই ব্যবহার করছেন তাঁরা। আর সুইস চকলেটের ক্ষেত্রে অনেকদিন আগে থেকেই গাধার দুধের ব্যবহার হয়ে আসছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, যাঁদের গরুর দুধে অ্যালার্জি রয়েছে তাঁরা অনায়াসেই গাধার দুধ খেতে পারেন।
তবে কেবল চকলেট বা এমনি দুধ খাওয়ার ক্ষেত্রেই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে দামী চিজও তৈরি হয় এই গাধার দুধ থেকেই। সার্বিয়া-তে তৈরি হয় এই সুস্বাদু এবং মহার্ঘ এই চিজ। নাম পুলে। এক পাউন্ডের দাম প্রায় ৬০০ ডলার। এক কিলো পুলে তৈরি করতে প্রয়োজন হয় ২৫ লিটার গাধার দুধের। তবে যে কোনও প্রজাতির গাধার দুধ হলে চলবে না। প্রয়োজন বলকান বা মন্টিনেগ্রো প্রজাতির গাধার দুধ। যা কেবলমাত্র সার্বিয়া বা তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলেই পাওয়া যায়। শোনা যায় বিখ্যাত টেনিস তারকা নোভাক জকোভিচও নাকি তাঁর রেস্তোরাঁর চেন-এ এই চিজই রাখেন।
খাওয়া-দাওয়া, চকলেট এবং চিজ তৈরি তো হলো, গাধার দুধের ডেয়ারি ফার্মের মালিকরা জানাচ্ছেন বিউটি প্রোডাক্টও তৈরি হয় এই দুধের সাহায্যে। স্বাদে বেশ মিষ্টি ধরনের এই দুধ খেতে নাকি অনেকটা নারকেলের দুধের মতো। আর বাদাম মিশিয়ে খেলে তো কথাই নেই। একেবারে তাক লেগে যাবে। এমনটাই জানিয়েছেন ডেয়ারি ফার্মের মালিকরা।