দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে যে তিনটি প্রধান স্বাস্থ্য বিধির কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে মাস্ক পরা ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ছাড়াও রয়েছে নিয়মিত হাত ধোয়া। আর এই হাত ধোয়ার গুরুত্ব ঠিক কতটা তা আরও ভালভাবে জানিয়েছেন একদল গবেষক। তাঁদের গবেষণায় জানা গিয়েছে, মানুষের ত্বকে ৯ ঘণ্টা সক্রিয় থাকে করোনাভাইরাস। তাই ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে মাঝেমধ্যেই হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
সম্প্রতি জাপানের একদল গবেষক এই কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, ইনফ্লুয়েঞ্জার জন্য যে প্যাথোজেনগুলি দায়ী সেগুলি মানুষের ত্বকে ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত বাঁচতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাস ত্বকে বাঁচতে পারে ৯ ঘণ্টা। এই মাসে ক্লিনিক্যাল ইনফেকশাস ডিজিজেজ জার্নালে এই গবেষণার রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে।
গবেষকরা জানিয়েছেন, “সার্স-কভ-২ ভাইরাস মানুষের ত্বকে ৯ ঘণ্টা বাঁচতে পারে। তার ফলে মানুষের ত্বক থেকে সেই ভাইরাস সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু ইনফ্লুয়েঞ্জা এ ভাইরাসের ক্ষেত্রে তার বেঁচে থাকার সময় অনেক কম। তাই সার্স-কভ-২ ভাইরাসের সংক্রমণ অনেক বেশি ক্ষতিকর।”
করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের দেহ থেকে একদিন পরে ত্বকের নমুনা নিয়ে এই পরীক্ষা করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে ইথানল ব্যবহার করলে ১৫ সেকেন্ডের মধ্যে এই ভাইরাস ও ফ্লুয়ের কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই ইথানল সাবান ও হ্যান্ড স্যানিটাইজারে থাকে। তাই সেখানেই হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা বোঝা যাচ্ছে।
এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, সার্স-কভ-২ ভাইরাস ত্বকে বেশিক্ষণ সক্রিয় থাকার ফলে তার থেকে সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। কিন্তু বারবার হাত ধুলে তা অনেকটাই কমে যায়। তাই সবার উচিত মাঝেমধ্যেই হাত ধোয়া।
একই দাবি অবশ্য করা হয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর তরফেও। সেখানে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস কোনও জড়বস্তুর উপর অনেকক্ষণ বেঁচে থাকতে পারে। এছাড়া হাওয়াতেও এই ভাইরাস অনেকটা ভেসে যেতে পারে বলেও বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে। তাই এই ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচতে তিনটে বিষয়ের দিকে গুরুত্ব দিচ্ছে হু। সেগুলি হল, মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা ও হাত ধোয়া। আর এই হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা আরও একবার জানাল জাপানি গবেষকদের গবেষণা।