ডিজনিল্যান্ডে যাবে না কাদেন, ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা অনুদান দেবে দুস্থদের জন্য
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বামনত্বের শিকার অস্ট্রেলিয়ার ছোট্ট কাদেন। ৯ বছর বয়সেই নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল ও। স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের থেকে এত বাঁকা কথা আর কটূ মন্তব্য শুনতে হত যে মনোবলটাই ভেঙে গিয়েছিল কাদেনের। কিন্তু কাদেনের কান্না এবং নিজেকে শেষ করে
শেষ আপডেট: 27 February 2020 13:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বামনত্বের শিকার অস্ট্রেলিয়ার ছোট্ট কাদেন। ৯ বছর বয়সেই নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল ও। স্কুলে গিয়ে সহপাঠীদের থেকে এত বাঁকা কথা আর কটূ মন্তব্য শুনতে হত যে মনোবলটাই ভেঙে গিয়েছিল কাদেনের। কিন্তু কাদেনের কান্না এবং নিজেকে শেষ করে দেওয়ার খবর সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতে বেশি সময় লাগেনি। ওর জন্য তৈরি হয়েছিল ফান্ড, সেখানে জমাও পড়েছে বিপুল অর্থ। সেই টাকায় ডিজনিল্যান্ড বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল কাদেনের। তবে ঘুরতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করেছে এই একরত্তি। বরং তার ইচ্ছে এই টাকা খরচ হোক চ্যারিটির কাজে।
বয়সের সঙ্গে সঙ্গে উচ্চতায় বাড়েনি ছেলেটা। আর তাই প্রতিদিন ৯ বছরের ছোট্ট ছেলেটাকে সইতে হত হাজার অপমান। কখনও স্কুলে কখনও বা রাস্তাঘাটে, ছোট্ট কাদেনকে দেখা হাসি-ঠাট্টা করার সুযোগ ছাড়তেন না অনেকেই। তবে ক্রমেই অন্যদের তামাশার পাত্র হয়ে ওঠা কাদেনের জীবন অন্ধকার হয়ে উঠছিল। নিজেকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল এই ছোট ছেলেটা। তার বুকভাঙা কান্নার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। ভাইরাল হওয়া ঐ ভিডিওতে কাদেনকে বারবার বলতে শোনা গিয়েছিল, “আমি নিজের বুকে ছুরি মারতে চাই। এমন কাউকে চাই যে আমায় শেষ করে দেবে। নিজেকে মেরে ফেলতে চাই আমি।“

অস্ট্রেলিয়ার বাসিন্দা ছোট্ট কাদেনের কান্না দেখে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি অনেকেই। তাঁদের মধ্যে অন্যতম মার্কিন কমেডিয়ান ব্র্যাড উইলিয়ামস। কাদেনকে সাহায্য করার জন্য রাতারাতি একটি সংগঠন তৈরি করেন ব্র্যাড। নেট দুনিয়ায় তৈরি হওয়া ওই সংস্থায় কাদেনের সাহায্যের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আর্থিক সাহায্য পাঠাতে শুরু করেন বহু মানুষ। মাত্র কয়েকদিনেই জনপ্রিয় হয় ওঠে কাদেনের নামে তৈরি হওয়া ওই ফান্ড। জমা হয় ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার ইউএস ডলার। এই টাকা দিয়েই মায়ের সঙ্গে ডিজনিল্যান্ড ঘুরতে যাওয়ার কথা ছিল কাদেনের। কিন্তু সে যাচ্ছে না। বরং ছোট্ট ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এই টাকা খরচ করবে চ্যারিটির কাজে। দুস্থদের জন্য দানধ্যান করবে।
সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে একথা জানিয়েছেন কাদেনেরই পরিবারের এক সদস্য। তিনি বলেছেন, "কেন কাদেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। তবে অনুমান, ডিজনিল্যান্ডে ঘুরতে যেতেও ভয় পাচ্ছে ও। যদি ওখানেও ওকে দেখে লোকে ঠাট্টা-তামাশা করে। এতদিন ধরে কম অবহেলা-অবজ্ঞা-অপমান তো সহ্য করেনি ছেলেটা। তাই বোধহয় আর এসব চায় না।" তবে কাদেনের মন যে খুব নরম এবং উদার সেকথাও জানিয়েছেন ওই মহিলা। তিনি বলেছেন, "বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ও নিজে খুব অসহায় হয়ে পড়ত। তাই এবার বাকি অসহায়দের জন্য কাজ করতে চায় কাদেন। তাদের ভালমন্দের জন্যই ওই ফান্ডের টাকা খরচ করতে চায়। আমরা সবাই ওর এই সিদ্ধান্তে সমর্থন করেছি। আমাদের পরিবারের ছেলে যে এত দায়িত্ববান এটা ভেবেও ভাল লাগছে।"