দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনাভাইরাসের সংক্রমণে উন্নত দেশগুলির অর্থনীতিই খাদের ধারে এসে দাঁড়িয়েছে। উন্নয়নশীল ও পিছিয়ে পড়া দেশগুলির অবস্থা আরও ভয়ঙ্কর। সার্বিক এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার জি-২০ রাষ্ট্রগুলির সম্মেলনে সর্বসম্মতভাবে স্থির হয়েছে যে, বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে এই রাষ্ট্রগুলি ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস চালাবে। ৫ ট্রিলিয়ন ডলার তথা ভারতীয় মুদ্রায় ৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৩০ হাজার কোটি টাকা ঢালবে বিশ্ব অর্থনীতি। যাতে করোনা ধাক্কা সামলে সবাই ফের মাজা শক্ত করে দাঁড়াতে পারে।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বিশ্বজোড়া মহামারীর আকার ধারণ করার পরই স্থির হয়েছিল যে জি-২০ রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতারা ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে বৈঠক করবেন। তার আগে জি-২০ গোষ্ঠীভুক্ত রাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের গভর্নররা এ ব্যাপারে একটি অ্যাকশন প্ল্যান বানিয়েও রেখেছিলেন। ওই বৈঠকেই এদিন ঠিক হয়েছে যে সদস্য দেশগুলি ঐক্যবদ্ধ ভাবে এই সংক্রমণ মোকাবিলায় ঝাঁপাবে। এ ব্যাপারে তথ্য ও অভিজ্ঞতার আদানপ্রদান বাড়াবে। আর তার পাশাপাশিই বিশ্ব অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে সচেষ্ট হবে।
বিশ্ব অর্থনীতিতে ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ঢালার সিদ্ধান্ত সহমতের ভিত্তিতেই নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে ঠিক হয়েছে, সদস্য দেশগুলির সঙ্গে এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার ও বিশ্ব ব্যাঙ্ক সমন্বয় করে চলবে।
এদিনের ভিডিও লিঙ্কের মাধ্যমে ওই বৈঠকের পর একটি বিবৃতিও প্রকাশ করা হয়েছে জি-২০র তরফে। তাতে বলা হয়েছে, গোটা পৃথিবীর সামনে সঙ্কট এখন অভিন্ন। তাই ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের জন্যই সবাই অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছে। বিশ্বের কুড়িটি শিল্পোন্নত দেশ স্থির করেছে, মহামারীর আর্থিক ও সামাজিক ধাক্কা সামলে উঠতে তারা একসঙ্গে চলবে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, যে ধরনের সাড়া এই বৈঠক থেকে পাওয়া গিয়েছে তাতে আশা করা হচ্ছে বিশ্ব অর্থনীতি ফের চাঙ্গা করা সম্ভব হবে।
এদিনের বৈঠকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানমও উপস্থিত ছিলেন। মহামারী রুখতে উন্নত দেশগুলিকে আরও অনুদান বাড়ানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেন। কারণ, তাঁর মতে স্বাস্থ্য কর্মীদের সুরক্ষার কথাটাও ভাবতে হবে। সেই সঙ্গে গরিব ও অনগ্রসর দেশগুলিকেও এই লড়াইয়ে শক্তি যোগাতে সাহায্যের হাত বাড়াতে হবে।
আবার বৈঠকে আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডার ও বিশ্ব ব্যাঙ্কের তরফেও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়। তাদের বক্তব্য, শিল্পোন্নত দেশগুলোতে অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে হলে এখনই ঋণের উপর দেয় সুদের ক্ষেত্রে সাময়িক অব্যাহতি দিতে হবে। সেই দিকটা যেন অবশ্যই ভেবে দেখা হয়।