দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাঝরাতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে শহরের একটি বড় রেস্তোরাঁতে গিয়েছিলেন বছর ২৩-এর শিখ যুবক গুরবীন্দর গ্রেওয়াল। কিন্তু তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হলো না রেস্তোরাঁতে। কারণ হিসেবে দেখানো হলো, মাথায় পাগড়ি পরে থাকায় তা রেস্তোরাঁর বারের ড্রেসকোডের সঙ্গে মিলছে না। আর এই নিয়েই বিতর্ক দেখা দিয়েছে সুদূর মার্কিন মুলুকে।
গত শনিবার মধ্যরাতে আমেরিকার পোর্ট জেফারসন শহরে হারবার গ্রিল নামের বার কাম রেস্তোরাঁতে বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন গুরবীন্দর গ্রেওয়াল। সেখানে গেলে রেস্তোরাঁর বাইরের সিকিউরিটি কর্মীরা তাঁকে আটকান। তিনি বলেন, শুধুমাত্র বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করতেই সেখানে এসেছেন তিনি। কর্মীরা বলেন, তিনি পাগড়ি পরে থাকায় তাঁকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হবে না। অগত্যা সেখান থেকে ফিরে আসেন তিনি।
স্টনি ব্রুক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট গুরবীন্দর পরে বলেন, "আমি হবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি খুব অপমানিত ও আঘাতও পেয়েছি এই ঘটনায়। আমার জীবনে এই ধরণের ঘটনার সম্মুখীন হইনি আমি। শুধুমাত্র পাগড়ি পরে থাকায় আমাকে ভিতরে ঢুকতে দেওয়া হলো না।" গুরবীন্দর জানিয়েছেন, তিনি এই ব্যাপারটা রেস্তোরাঁর মালিককে চিঠি লিখে জানিয়েছেন।
এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পরেই শুরু হয় সমালোচনা। স্থানীয় মানুষদের সমালোচনার জবাব দেন রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ। জানানো হয়, "ওই যুবক মাথায় একটি পাগড়ি জাতীয় কিছু পরেছিলেন। কিন্তু আমাদের রেস্তোরাঁর নিয়ম হলো, উইকেন্ডে অর্থাৎ, শনি ও রবিবার রাত ১০টার পর থেকে আমাদের বারে ঢুকতে হলে মাথায় কিছু পরা যাবে না। কারণ উইকেন্ডে বারে প্রচুর লোক আসে। ফলে সেই সময় মানুষের সুরক্ষার দায়িত্বও আমাদের উপরেই থাকে। মাথায় কিছু পরা থাকলে লোকের মুখ দেখা যায় না। তাই অতিথিদের সুরক্ষার জন্যই এই নিয়ম করা হয়েছে।" রেস্তোরাঁর তরফে আরও জানানো হয়েছে, "উইকেন্ডে রাত ১০টার আগে ও অন্যান্য দিন সবসময় আমরা পাগড়ি, টুপি সব কিছু পরেই ঢুকতে দিই।"
যদিও এই ঘটনার পর গুরবীন্দর জানিয়েছেন, তিনি পোর্ট জেফারসন শহরের মেয়রকে এই ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন। মেয়র তাঁর কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং বলেছেন এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেবেন তিনি। গুরবীন্দর পুলিশেও এই ব্যাপারে অভিযোগ করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশের তরফে জানানো হয়, এটা সিভিল বিষয়, ক্রিমিন্যাল বিষয় নয়। গুরবীন্দর অভিযোগ করেছেন, স্কুলে পরার সময় অনেক সময়ই তাঁকে হেনস্থা করা হয়েছে। কিন্তু কখনও কোথাও থেকে ঢোকা থেকে তাঁকে বারণ করা হয়নি। এই ঘটনায় তাঁর মৌলিক অধিকার খর্ব হয়েছে। তাই তিনি এতটা দুঃখ পেয়েছেন।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/grumpy-cat-internet-star-dies-at-the-age-of-7/