দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছুটির দিনে সাতসকালে জোড়া বিস্ফোরণ। ভয়াবহ এই বিস্ফোরণে মৃত্যু হয়েছে ২১ জনের। আহত হয়েছেন সত্তরের বেশি মানুষ। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
এই ভয়ানক বিস্ফোরণ হয়েছে ফিলিপিন্সের দক্ষিণ অংশে। জানা গিয়েছে, ফিলিপিন্সের জোলো দ্বীপের একটি রোমান ক্যাথলিক চার্চে অল্প সময়ের ব্যবধানেই এই জোড়া বিস্ফোরণ হয়েছে। মৃতদের মধ্যে সাধারণ মানুষ ছাড়াও রয়েছেন চার্চের নিরাপত্তাকর্মীরা। ফিলিপিন্সের পুলিশ প্রধান জানিয়েছেন, রবিবারের সকালে বিশেষ প্রার্থনা বা সানডে মাস–এর সময় আওয়ার লেডি অফ মাউন্ট কারমেল ক্যাথিড্রালের ভিতরেই প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই দ্বিতীয় বোমাটি ফাটে ক্যাথিড্রাল চত্বরে। জানা গিয়েছে, এই ক্যাথিড্রালে এর আগেও বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছিল জঙ্গিরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, বিস্ফোরণের পরেই এলাকা ঘিরে ফেলে টহলদারি শুরু করে পুলিশ। মৃতদেহগুলি পাঠানো হয়েছে ময়নাতদন্তের জন্য। আহতদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁদের হেলিকপ্টারে করে জামবোঙ্গা শহরের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এই জোড়া বিস্ফোরণের পর ফিলিপিন্সের প্রতিরক্ষা সচিব ডেলফিন লোরেনজাঞ্ঝা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন, গোটা দেশে সতর্কতা বাড়িয়ে দিতে। সব ধর্মীয় প্রার্থনাস্থল কড়া নিরাপত্তার বেড়াজালে মুড়ে ফেলেছে সেনা ও পুলিশ।
গত পাঁচ দশক ধরে চলা গৃহযুদ্ধ মেটাতে সপ্তাহখানেক আগেই ফিলিপিন্সের দক্ষিণাংশের রোমান ক্যাথলিক অধ্যুষিত পাঁচটি প্রদেশকে স্বশাসন দেওয়ার অনুমোদনে সায় দিয়েছে সংখ্যালঘু মুসলিমরা। শুধু সুলু প্রদেশই এই প্রস্তাবনায় সায় দেয়নি। এই প্রদেশের জোলো দ্বীপেই রমরমা রয়েছে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষিদ্ধ তালিকাভুক্ত জঙ্গি গোষ্ঠী আবু সায়াফ গ্রুপের। যদিও রবিবারের এই জোড়া বিস্ফোরণের দায় এখনও কোনও জঙ্গি গোষ্ঠী স্বীকার করেনি, তবে এর পিছনে এএসজি–র হাত রয়েছে বলেই মনে করছে সরকার। শান্তি প্রক্রিয়া বানচাল করতেই জঙ্গিরা এই বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।