দ্য ওয়াল ব্যুরো: হওয়ার কথা ছিল অ্যাথলিট। হয়ে গেল গ্যাংস্টার। তারপর পাঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ পুলিশের মোস্ট ওয়ান্টেড লিস্টের উপর দিকে থাকা জয়পাল সিং ভুল্লর নিহত হল কলকাতার মাটিতে। নিউটাউনে। এসটিএফের গুলিতে।
নিউটাউনের শ্যুটআউট নিয়ে এখন তোলপাড় প্রশাসন। পাঞ্জাবের অস্ত্রকারবারীদের ধরতে গিয়ে গুলিযুদ্ধ হয়ে গিয়েছে সাপুরজিতে। তাতে যেমন জয়পাল-সহ দুই গ্যাংস্টার নিহত হয়েছে তেমন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর জখম অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক পুলিশকর্মীও।
কিন্তু কে এই জয়পাল সিং ভুল্লর?
বাবা পুলিশ ছিলেন। ছোটবেলা থেকেই বন্দুকের প্রতি আগ্রহ ছিল ছেলের। কিন্তু সে তো ছোটবেলার শিশুসুলভ চপলতা। একটু বড় হতেই ট্র্যাককে বেছে নিয়েছিলেন নিজের কেরিয়ারের জন্য। অ্যাথলেটিক্স হয়ে উঠেছিল ধ্যানজ্ঞান। জাতীয় স্তরের বহু প্রতিযোগিতায় মেডেল পাওয়াকে একটা সময়ে অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন।
কিন্তু ছোটবেলার সেই বন্দুকের নেশাই অ্যাথলেটিক্সের ট্র্যাক থেকে ছিটকে দিয়েছিল জয়পালকে। ক্রমশ টেনে নিয়ে গিয়েছিল অন্ধকার জগতের দিকে। জয়পালের বয়স তখন ১৯। লুধিয়ানায় একটি সংঘর্ষে নাম জড়াল জয়পালের। জেল খাটতে হল কয়েক মাস। বাবার যেহেতু পুলিশের চাকরি, আজ এখানে তো কাল সেখানে পোস্টিং। বাবা ঠিক করলেন, ছেলেকে যদি সঠিক পথে আনতে হয় তাহলে তাঁর কাছে নিয়ে রাখতে হবে। যাতে নজরে থাকে।
সেই ঘটনায় জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার বেশ কিছু দিন স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরেছিলেন জয়পাল। কিন্তু ফের অন্ধকার জগতের লোকজনের সঙ্গে মেলামেশা শুরু হয় জয়পালের। শুধু পাঞ্জাব নয়, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশের গ্যাংস্টারদের চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়তে থাকে এই পুলিশ-পুত্র। ব্যাঙ্ক ডাকাতি, ক্যাশ ভ্যান থেকে টাকা লুঠ, সোনা ছিনতাই এমনকি পুলিশ খুনেও জড়িয়ে পড়ে জয়পাল।
লুধিয়ানা আর চণ্ডীগড়ের জেল কার্যত বাড়িঘর হয়ে যায় এই কুখ্যাত দুষ্কৃতীর। লুধিয়ানা জেলেই জয়পালের সঙ্গে আলাপ যশপ্রীত সিং রকি নামের আর এক দুষ্কৃতীর। তার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থেকে ক্রমশ নিজের দাপটের পরিসর বাড়াতে থাকে জয়পাল। হিমাচল প্রদেশ পুলিশের বক্তব্য, সে রাজ্যে গিয়ে এক অন্য গোষ্ঠীর গ্যাংস্টারকে যে নৃশংস কায়দায় খুন করেছিল জয়পাল তা শিউরে ওঠার মতো। গুলি করে হত্যা করার পর সেই গ্যাংস্টারের দেহের উপর দিয়ে অন্তত ২০ বার গাড়ি চালিয়ে পিষে দেওয়া হয়েছিল। হিমাচলের রাস্তা থেকে তারপর সেই দেহ তুলতে হয়েছিল বেলচা দিয়ে চেঁচে।
গত ১৫ মে পাঞ্জাবে আরও দু’জনকে খুন করে জয়পাল। তারপরই কলকাতায় পালিয়ে আসে সে। তবে কী ভাবে এতদিন এখানে সে ঘাঁটি গেড়ে রইল সেটাই এখন খতিয়ে দেখছে তদন্তকারীরা। তা ছাড়া অভিজাত সাপুরজি আবাসনে কী ভাবে এত অস্ত্র মজুত করল গ্যাংস্টারের দল তাও তদন্তকারীদের ভাবাচ্ছে।