দ্য ওয়াল ব্যুরো: "আবু বকর আল-বাগদাদি, কট্টরপন্থী ইসলামী পণ্ডিত, ৪৮ বছর বয়সে প্রয়াত।"-- আইসিস চিফ, কুখ্যাত জঙ্গি বাগদাদির মৃত্যুর পরে তাঁর স্মৃতিচারণায় এমনই শিরোনাম রেখেছিল তারা। স্বাভাবিক ভাবেই এই শিরোনাম নিয়ে চরম ট্রোলিং শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়াজুড়ে। বাগদাদিকে এই 'সম্মান' দেওয়া হল কী কারণে, তাই নিয়েও তাদের বিরুদ্ধে প্রশ্ন তোলেন অনেকে। শেষমেশ শিরোনাম বদলে ফেলতে বাধ্য হল 'ওয়াশিংটন পোস্ট'-এক মতো একটি দাপুটে সংবাদমাধ্যম। লিখল, "আবু বকর আল-বাগদাদি, ইসলামিক স্টেট জঙ্গিদলের প্রধান, ৪৮ বছর বয়সে প্রয়াত।"
ওয়াশিংটন পোস্টের মতো বিশ্বখ্যাত সংবাদ প্রতিষ্ঠানের এই শিরোনাম-বিভ্রাট নিয়ে রবিবার থেকেই সরগরম সোশ্যাল মিডিয়া। সোমবার রীতিমতো ট্রেন্ডিংয়ে উঠে আসে এই ঘটনা।
https://twitter.com/yashar/status/1188473675894284289
শনিবার মার্কিন হানায় মারা যায় আইসিস চিফ বাগদাদি। রবিবার সন্ধেয় টুইট করে সে কথা ঘোষণা করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বলেন, "কুকুরের মতো মরেছে বাগদাদি।" তার আগে থেকেই অবশ্য জল্পনা ঘনিয়েছিল এই বিষয়ে।
শেষমেশ সিরিয়ায় ইদলিব প্রদেশের বারিশা এলাকার অভিযান সফল বলে ঘোষণা করেছেন মার্কিন তদন্তকারীরা। তাঁরা জানিয়েছেন, যে আইএস নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি যার মাথার দাম ২ কোটি ৫০ লক্ষ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১৭৭ কোটি টাকা), তাকেই মাত্র কয়েক ঘণ্টার অপারেশনে নিকেশ করেছে মার্কিন সেনা। মৃত ব্যক্তি যে বাগদাদি সেটাও হোয়াইট হাউসের তরফে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে। দাবি করা হয়েছে, আত্মঘাতী জ্যাকেটের বোতাম টিপে নিজেকে উড়িয়ে দিয়েছেন আইএস প্রধান। দেহাংশের ডিএনএ পরীক্ষা করে ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন, মৃত ব্যক্তি বাগদাদি ছাড়া আর কেউ নন।
হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর মিলেছিল, সিরিয়ায় আইসিস জঙ্গিদমনে ছাড়পত্র দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট। তার পরেই সেনা সেখানে গোপন অভিযান করে। তাদের মূল লক্ষ্য ছিলেন আইসিস নেতা আল-বাগদাদি। ট্রাম্প জানান, সিআইএ-র সহায়তায় বাগদাদির ঠিক কোথায় আছে, তা ঠিক করার পরে নির্দিষ্ট টার্গেটে অভিযানের রূপরেখা ঠিক করা হয়। এর পরে, শনিবার রাতে একটি বিপজ্জনক এবং সাহসি অভিযান করে মার্কিন বাহিনী। সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে রীতিমতো রাজকীয় ধাঁচে অবিশ্বাস্য এই অভিযান শেষ করেন অফিসাররা।
এর পরে ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে মার্কিন সেনা। সেই নমুনার পরীক্ষার রিপোর্টে বাগদাদির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন। এদিনের ভাষণে ট্রাম্প আরও বলেন, “বাগদাদি এক জন দুর্বল ও হতাশ ব্যক্তি ছিল। তাকে বিদায় করা হয়েছে।”
এই নিশ্চয়তার পরেই বাগদাদির অবিচুয়ারি তথা স্মৃতিচারণ প্রকাশ করে ওয়াশিংটন পোস্ট।
তাতেই ওয়াশিংটন পোস্টের বিশ্বজোড়া পাঠকমহলে প্রশ্ন ওঠে, বাগদাদির মতো একজন নৃশংসতম, কুখ্যাততম জঙ্গির অবিচুয়ারি ছাপার যৌক্তিকতা কতটা। এর পরেই সকলের চোখ পড়ে শিরোনীমের দিকে। রীতিমতো রে রে করে ওঠেন সকলে। ওয়াশিংটন পোস্টের মতো একটি সংবাদমাধ্যম কী করে বাগদাদির দাগী অপরাধী পরিচয়ের বদলে 'পণ্ডিত' পরিচয়কে সামনে আনতে পারে, প্রশ্ন তোলেন সকলে। টুইটারে ট্রেন্ডিং শুরু হয়ে যায়, #ওয়াশিংটনপোস্টডেথনোটিস এবং #ওয়াশিংটনপোস্ট নামে।
এর পরেই শিরোনাম বদল করতে বাধ্য হয় তারা।
দেখে নিন টুইটারের কিছু পোস্ট।
https://twitter.com/TheAhmedShariff/status/1188664673756794882
https://twitter.com/MaheshShankarS/status/1188705118692110337
https://twitter.com/rameshsrivats/status/1188694263850250240
https://twitter.com/sasmitpatra/status/1188653356744466438
আরও পড়ুন:
https://www.four.suk.1wp.in/news-international-inside-the-dramatic-us-military-raid-that-killed-isis-leader-baghdadi/
পড়ুন 'দ্য ওয়াল' পুজো ম্যাগাজিন ২০১৯–এ প্রকাশিত গল্প
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%b6%e0%a6%af%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be-%e0%a6%89%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%a8/