দ্য ওয়াল ব্যুরো: বদল হলো শতাব্দী প্রাচীন নিয়মের। রক্ষণশীলতার বেড়াজাল ভেঙে বেরিয়ে এল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। মুসলিম মা এবং হিন্দু বাবার ন'মাসের সন্তানকে বার্থ সার্টিফিকেট দিল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সরকার। নজিরবিহীন এই পদক্ষেপের জন্য প্রশংসাও পেয়েছে ইউনাইটেড আরব এমিরেটস।
কিন্তু কী এমন হল যে নিজেদের নিয়মে এমন যুগান্তকারী বদল আনল সংযুক্ত আরব আমিরশাহী প্রশাসন?
জানা গিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর বাসিন্দা ওই দম্পতি ভারতীয় বংশোদ্ভূত। সেখানকার নিয়ম অনুযায়ী, এক জন মুসলিম পুরুষ অন্য ধর্মের মহিলাকে বিয়ে করতে পারবেন। কিন্তু উল্টোটা হবে না। অর্থাৎ মুসলিম মহিলা অন্য কোনও ধর্মের পুরুষকে বিয়ে করবেন, এটা সেখানে নিষিদ্ধ।
তবে কিরণ বাবু এবং সনম সাবু সিদ্দিকির বিয়েটা হয়েছিল ভারতেই। দক্ষিণের রাজ্য কেরলে। তার পরে এই দম্পতি চলে যান সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর শহর শারজায়। এখন সেখানকারই বাসিন্দা তাঁরা। ২০১৮ সালে কন্যা সন্তানের জন্ম দেন সনম। নাম রাখেন অনন্তা অ্যাসেলিন কিরণ। কিন্তু আমিরশাহীর হাসপাতাল নবজাতকের বার্থ সার্টিফিকেট দিতে অস্বীকার করে। কারণ তাঁর বাবা হিন্দু এবং মা মুসলিম।
মেয়ের ভবিষ্যতে কোনও সমস্যার আঁচ আসতে দিতে চাননি কিরণ এবং সনম। তাই এই দম্পতি দ্বারস্থ হন আদালতের। তাঁরা নো-অবজেকশন সার্টিফিকেটের আর্জি জানান আদালতে। দীর্ঘ চার মাস ধরে চলে শুনানি। কিন্তু আদালত ওই দম্পতির সব আর্জি খারিজ করে দেয়। সন্তানের জন্মের বৈধ সার্টিফিকেট না থাকায় সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রশাসন ছোট্ট অনন্তাকে অভিবাসনের ছাড়পত্র দিতেও অস্বীকার করে। সেখানকার ভারতীয় দূতাবাসের দ্বারস্থ হয়েও উপায় মেলেনি। তারা সাহায্যে রাজি থাকলেও নিয়ম বদলে রাজি ছিল না সংযুক্ত আরব আমিরশাহী সরকার। এর পরে ফের আদালতের দ্বারস্থ হন কিরণ এবং সনম।
এ বার আদালত তাঁদের খালি হাতে ফেরায়নি। আদালতের নির্দেশেই শারজার ওই হাসপাতাল থেকে ৯ মাসের কন্যা সন্তানের বৈধ বার্থ সার্টিফিকেট পেয়েছেন কিরণ-সনম। সংযুক্ত আরব আমিরশাহীর প্রশাসন জানিয়েছে, এই প্রথম নিয়ম ভাঙা হয়েছে তাদের দেশে। ২০১৯ সালকে সহিষ্ণুতার বছর হিসেবে আখ্যা দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী। তাদের লক্ষ্য, দেশে থাকা ভিন্ন ধর্ম, ভিন্ন জাতির মানুষকে সম্মান এবং স্বীকৃতি দেওয়া।
সেই সম্মান এবং স্বীকৃতি স্বরূপই ছোট্ট মেয়েটিকে বার্থ সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে আমিরশাহীর প্রশাসন।