দ্য ওয়াল ব্যুরো: অবশেষে সুর নরম করল টুইটার। কেন্দ্রের পাঠানো চূড়ান্ত নোটিস পেয়ে ডিজিটাল আইন মেনে চলার কথা জানাল তারা। সংস্থা সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে বিধি মেনে নোডাল ও গ্রিভান্স অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। বাকি রয়েছে চিফ কমপ্লায়েন্স আধিকারিক নিয়োগ। সেটাও চলতি সপ্তাহের মধ্যে সেরে ফেলা হবে। ৬ জুন কেন্দ্রকে পাঠানো চিঠিতে এমনই আশ্বাস দিয়েছে টুইটার কর্তৃপক্ষ।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপত্তিকর, বিতর্কিত এবং অপরাধমূলক পোস্ট কিংবা মেসেজের বাড়বাড়ন্ত রুখতে নয়া আইন চালুর ঘোষণা করে বৈদ্যুতিন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক। এই নিয়ম মোতাবেক, ফেসবুক, গুগল, হোয়াটসঅ্যাপ, টুইটারের মতো সংস্থাকে ভারপ্রাপ্ত একাধিক অফিসার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে বেঁধে দেওয়া হয় একগুচ্ছ শর্তও। যেমন— সমস্ত আধিকারিক যেন ভারতের নাগরিক হন। তা ছাড়া তাঁদের আবশ্যিকভাবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার কর্মী হতে হবে। এই মর্মে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসারদের নাম-ঠিকানা পাঠানোরও নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরপর শুরুতে গড়িমসি করলেও বাদবাকি সংস্থা ধীরে ধীরে শর্তগুলি মেনে নেয়। বাকি ছিল টুইটার। এবার তারাও একই পথে হাঁটল। মন্ত্রককে পাঠানো চিঠিতে টুইটার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, 'চিফ কমপ্লায়েন্স অফিসার নিয়োগের কাজও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এই সংক্রান্ত এবং অতিরিক্ত সমস্ত তথ্য আগামী কিছুদিন, খুব বেশি হলে এক সপ্তাহের মধ্যে জানিয়ে দেওয়া হবে।'
যদিও টুইটারের চিঠিতে পুরোপুরি সন্তুষ্ট নয় সরকার। কারণ, আপাতত আংশিক সময়ের জন্য তারা অফিসারদের নিয়োগ করেছে। তার উপর কমপ্লায়েন্স আধিকারিকের পদ এখনও ফাঁকা পড়ে আছে। সূত্রের খবর, শুধু টুইটার নয়। ফেসবুক, হোয়াইটসঅ্যাপও নাকি এই মধ্যপন্থা নিয়েছে। অর্থাৎ, পূর্ণ সময়ের কর্মী হিসেবে তাদের কেউই কোনও আধিকারিককে নিয়োগ করেনি।
এই প্রেক্ষিতেই এক শীর্ষ কেন্দ্রীয় অফিসার বলেন, 'হয় আইন ১০০ শতাংশ মানতে হবে। নয়তো সরে আসতে হবে। মাঝামাঝি কিছু নেওয়া যাবে না। কোনও সংস্থা আধিকারিক নিয়োগ করেছে বটে। কিন্তু তাঁরা ভারতীয় নন। আবার স্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ না করে কেউ কেউ চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের পথ নিয়েছে। কিন্তু আমাদের সাফ দাবি— বিধির প্রতিটি নিয়ম মেনে চলতে হবে। এর অন্যথা করা যাবে না।'