দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রয়াত হলেন বিখ্যাত নাট্যব্যক্তিত্ব স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। বয়স হয়েছিল ৭১ বছর। দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। ভুগছিলেন কিডনির অসুখে। ডায়ালিসিসও চলছিল। আজ বুধবার দুপুরে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন সিনেমা ও নাট্যমঞ্চের এই প্রখ্যাত অভিনেত্রী।
১৯৮৪ সালে সত্যজিৎ রায়ের 'ঘরেবাইরে' চলচ্চিত্রে মুখ্য নারী চরিত্র 'বিমলা'র ভূমিকায় অভিনয় করে এদেশের সিনেপ্রেমী দর্শকের নজর কাড়েন স্বাতীলেখা সেনগুপ্ত। শেষবয়সে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বেঁধে 'বেলাশেষে' সিনেমাতেও অভিনয় করতে দেখা গেছে তাঁকে। এর পাশাপাশি আজীবন দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন মঞ্চে।
১৯৭৮ সালে এলাহাবাদ থেকে কলকাতায় এসে রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্তের নির্দেশনায় নান্দীকারে যোগ দেন তিনি। 'পাঞ্চজন্য', 'নাচনি'র মতো বহু বিখ্যাত নাটকে আলোড়ন তুলেছিল তাঁর অভিনয়। আজীবন যুক্ত ছিলেন নাট্য-আন্দোলনের সঙ্গে। ভারতীয় থিয়েটারে তাঁর অবদানের জন্য পেয়েছেন সঙ্গীত নাটক অকাডেমি পুরস্কার, নাট্য আকাদেমি পুরস্কার সহ একাধিক সম্মাননা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালের আই.সি.ইউতে প্রায় ২৫ দিন ভর্তি ছিলেন অভিনেত্রী। দীর্ঘ রোগভোগের পর আজ দুপুরে হাসপাতালেই শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সত্তরোর্ধ অভিনেত্রী। রেখে গেলেন স্বামী রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত ও কন্যা সোহিনী সেনগুপ্তকে।
তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি লেখেন, স্বাতীলেখা দেবীর প্রয়াণে অভিনয় জগতে এক বিশাল শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। স্বাতীলেখা সেনগুপ্তের স্বামী রুদ্রপ্রসাদ ও কন্যা সোহিনী সেনগুপ্তসহ তাঁর অগণিত অনুরাগী ও আত্মীয়স্বজনকে আন্তরিক সমবেদনাও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
কোভিড পরিস্থিতিতে গুণমুগ্ধদের ভিড় এড়াতে নান্দীকারের কার্য্যালয় বা বাড়িতে শায়িত রাখা হবে না মৃতদেহ। সরাসরি দেহ কেওড়াতলা মহাশ্মশানে নিয়ে যাওয়া হবে বলে পরিবারসূত্রে জানানো হয়েছে।