রফিকুল জামাদার
নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে 'টক টু মেয়র' কর্মসূচি শুরু করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। কিন্তু কলকাতা পুরবোর্ডের মেয়াদ ফুরিয়েছে গত ৭ মে। কলকাতার মেয়র থেকে ফিরহাদ তথা ববি হাকিম এখন কর্পোরেশনের প্রশাসক। তবু নাগরিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা থামছে না! শুধু বদল হচ্ছে নাম। এবার কলকাতা কর্পোরেশনের বিভিন্ন ওয়ার্ডের নাগরিকরা তাঁদের সমস্যার কথা জানাতে পারবেন 'ফোনের ওপারে' বা 'টক টু কর্পোরেশন'এ কল করে।
'টক টু মেয়র'-এর যে টোল ফ্রি নম্বর ছিল (১৮০০ ৩৪৫ ১২১৩) সেই নম্বরই বহাল থাকছে। এদিন কলকাতা পুরসভার প্রশাসকমণ্ডলীর প্রধান ফিরহাদ হাকিম বলেন, "এই সময়ে বহু মানুষ ফোন করছেন। তাঁদের অভাব অভিযোগ জানাচ্ছেন। তাঁরা চাইছেন ফের এটা চালু হোক।" রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী জানিয়েছেন, জুন মাসের প্রথম শনিবার থেকে শুরু হবে 'ফোনের ওপারে' পরিষেবা। তিনি না থাকলেও প্রশাসক বোর্ডের অন্য কোনও সদস্য মানুষের অভাব অভিযোগ শুনবেন।
শোভন চট্টোপাধ্যায় মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর কলকাতার মহানাগরিকের দায়িত্ব নিয়েই 'টক টু মেয়র' শুরু করেছিলেন ববি। বন্দরের এই নেতার ঘনিষ্ঠরা অনেকে ঘরোয়া আলোচনায় বলেন, 'টক টু মেয়র'-এর সাফল্য দেখেই 'দিদিকে বলো' কর্মসূচি শুরু করেছিল দল।
এমনিতে 'টক টু মেয়র' নাগরিক মহলে বেশ জনপ্রিয়ও হয়েছিল। শুধু কলকাতা নয়, দেখা গিয়েছে বৃহত্তর কলকাতার বিভিন্ন জায়গা থেকেও নানা সমস্যা নিয়ে ফোন গিয়েছে এসএন ব্যানার্জি রোডের লাল বাড়িতে। তার কোনওটা সল্টলেক, আবার কোনওটা বারাসত থেকে। আয়ত্তের মধ্যে থাকলে কলকাতার বাইরের এলাকার সেই সমস্যারও সমাধান করার চেষ্টা করেছেন পুরমন্ত্রী।
পুরসভার আধিকারিক ও মেয়র পরিষদ সদস্যদের নিয়ে টেবিলে বসতেন ফিরহাদ। অভিযোগ শুনেই সংশ্লিষ্ট আধিকারিক ও মেয়র পারিষদদের নির্দেশ দিতেন দ্রুত সমস্যা সমাধানের। গত জানুয়ারি মাসে এমনও দেখা গিয়েছিল, দক্ষিণ কলকাতার একটি পার্কে নিয়মিত প্রাতঃভ্রমণকারী এক বৃদ্ধ শনিবার দুপুরে টক টু মেয়রে অভিযোগ করেছেন, রবিবার সকালে হাঁটতে গিয়ে দেখেছেন সেই সমস্যার সমাধান হয়ে গিয়েছে। নাগরিকদের সঙ্গে পুরপ্রশাসনের সেই সরাসরি সংযোগ ফের শুরু হতে চলেছে কলকাতায়।