৬০ ঘণ্টা পার! বিদ্যুৎ নেই, জল নেই প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে, দেখা নেই সিইএসসি-পুরসভার, বিক্ষোভ নাগরিকদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফান চলে যাওয়ার পর ৬০ ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য সফর সেরে চলে যাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার হতে চলল। তবু জল নেই, বিদ্যুৎ নেই কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে। দেখা নেই সিইএসসি বা পুরসভার কর্মীদের। উপ
শেষ আপডেট: 23 May 2020 05:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফান চলে যাওয়ার পর ৬০ ঘণ্টা পার হয়ে গিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাজ্য সফর সেরে চলে যাওয়ার পর ২৪ ঘণ্টা পার হতে চলল। তবু জল নেই, বিদ্যুৎ নেই কলকাতার প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে। দেখা নেই সিইএসসি বা পুরসভার কর্মীদের। উপায় না দেখে শনিবার সকালে স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ দেখিয়ে পথ অবরোধ করলেন প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোডে বাটা কালিবাড়ির মোড়ে।
বস্তুত শুক্রবার বিকেল থেকেই অসন্তোষ পুঞ্জীভূত হচ্ছিল। শনিবার সকালে আর ধৈর্য্য রাখতে না পেরে পথ অবরোধ শুরু করেন বাসিন্দারা। বাড়ির মহিলারাও নেমে আসেন রাস্তায়। তাঁদের অভিযোগ, বুধবার বিকেলে সেই যে কারেন্ট গিয়েছে আর আসেনি। দৈনন্দিন ব্যবহারের জল পরের কথা, তীব্র পানীয় জলের সংকট তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দিনে চাঁদা তুলে পাঁচ হাজার টাকা দিয়ে জেনারেটর ভাড়া করে এলাকার কোনও কোনও বাড়িতে পাম্প চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বিক্ষোভরত এক প্রবীণ নাগরিক বলেন, "সিইএসসি-কে ফোন করছি বারবার। কোনও উত্তর মিলছে না। কর্পোরেশনের কারও দেখাই নেই এলাকায়। সেদিন রাতে যে গাছ পড়েছে তা সরানোর লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না!" এদিন স্থানীয়রাই হাত লাগিয়ে গাছ কেটে সামান্য গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করেন। কিন্তু বিদ্যুৎ আর পানীয় জলের সংকট দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে ফেলে দিয়েছে তাঁদের।

এই প্রতিবেদন যখন লেখা হচ্ছে, তখনও অবরোধ চলছে। এলাকায় লেক থানার পুলিশ পৌঁছেছে। কিন্তু তাঁরাও ফোন করে সিইএসসি-র কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারছেন না।
শুধু প্রিন্স আনোয়ার শাহ রোড নয়। কলকাতার উত্তর থেকে দক্ষিণ ছবিটা কমবেশি একরকম। বহু জায়গায় পড়ে রয়েছে গাছ। জলহীন, বিদ্যুৎহীন কলকাতা যেন বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। বহু জায়গায় শনিবার সকাল পর্যন্ত বিপর্যস্ত টেলি যোগাযোগ। ইন্টারনেট সংযোগও নেই বিস্তীর্ণ এলাকায়। সব মিলিয়ে উমফানের ধাক্কার পর কলকাতা এখনও উঠেই দাঁড়াতে পারেনি।
গতকালই কলকাতা কর্পোরেশনের প্রশাসক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম সংবাদমাধ্যমে বলেন, সাত দিন সময় লাগবে কলকাতাকে পুরোপুরি স্বাভাবিক করতে। তাঁর কথায় শহরের সাড়ে পাঁচ হাজারের বেশি গাছ পড়ে গিয়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়েছে অসংখ্য। সব মিলিয়ে নজিরবিহীন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়তে হয়েছে শহরবাসীকে।
পুরসভার প্রশাসক বোর্ডের সদস্য তথা সদ্য প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র অতীন ঘোষ বলেছেন, "বিদ্যুৎ সংযোগ না পাওয়ার জন্যই পানীয় জল সরবরাহ করা যাচ্ছে না। সিইএসসির সঙ্গে পুরসভা নিরন্তর সমন্বয় রাখছে। আশা করছি শনিবার বিকেলের মধ্যে অনেক জায়গায় জল সরবরাহ শুরু করা যাবে।"
শ্যামবাজার, পাইকপাড়া, গলফগ্রিন থেকে কুদঘাট, বাঁশদ্রোনী, গড়িয়া এলাকায় চূড়ান্ত দুর্ভোগে নাগরিকরা। সংকটের মধ্যে রোগীরা। বিদ্যুৎ, জলের অভাব তাঁদের ভয়ঙ্কর বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছে।