দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার রাতেই দমদমের এক প্রবীণের শরীরের করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গিয়েছে। ওই ব্যক্তি সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। রবিবার সকালে তাঁর স্ত্রীকে আইসোলেশনে পাঠানোর প্রস্তুতি শুরু করে দিল স্থানীয় পুরসভা ও উত্তর চব্বিশ পরগণার প্রশাসন।
দমদমের ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ওই ভদ্রলোক। ওই ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর হলেন কেয়া দাস । এদিন সকালে বেলা সাড়ে ১১ টা নাগাদ দ্য ওয়ালকে তিনি জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির বৃদ্ধা মা ও স্ত্রীকে নিয়ে প্রশাসন উদ্বিগ্ন। উদ্বেগ রয়েছে ওই বাড়ির পরিচারিকাকে নিয়েও।
জানা গিয়েছে, এদিন সকালে ব্যারাকপুরের এসডিপিও এবং মহকুমার শাসকের সঙ্গে কথা বলেন কেয়া। তার পর চিকিৎসকরা ওই বৃদ্ধা এবং মহিলার শারীরিক পরীক্ষা করেন। এই প্রতিবেদন যখন লেখা হয়েছে (বেলা ১২ টা) তখন তাঁদের বেলেঘাটা আইডি হাসপাতালে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
দমদমের ওই পরিবারের কেউই সম্প্রতি বিদেশে যাননি। কিন্তু তার পরেও ওই ব্যক্তির শরীরে কীভাবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হল তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রশাসনের একাংশের মধ্যে গুঞ্জন যে ওই ব্যক্তির পরিবারের এক সদস্য ইতালি থেকে সম্প্রতি এসেছিলেন। তবে পরিবারের তরফে এখনও সে কথার সত্যতা স্বীকার করা হয়নি।
শুকনো কাশিজনিত সমস্যা নিয়ে গত ১৩ মার্চ থেকে ভুগছিলেন দমদমের ওই ব্যক্তি। তার পর কাশি ও শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকায় তাঁকে সল্টলেকের বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিন্তু তিন দিন হাসপাতালে ডাক্তারদের পর্যবেক্ষণে থাকার পরেও তাঁর উপশম বিশেষ হয়নি। বরং শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকে। ১৯ মার্চ শ্বাসকষ্ট বেড়ে এমনই হয় যে তাঁকে ভেন্টিলেটরে রাখতে হয়। ডাক্তাররা তাঁকে ইসিএমও সাপোর্টে রাখার পরামর্শ দেন।
তবে তখনও তাঁর শরীর নমুনা সংগ্রহ করে করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়নি। পরে তাঁর লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য নাইসেড এবং এসএসকেএম হাসপাতালে পাঠানো। তাতেই পজিটিভ রেজাল্ট ধরা পড়ে।