দ্য ওয়াল ব্যুরো: নার্সিংয়ের ছাত্রীর আত্মহত্যার ঘটনায় তদন্ত করতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করল ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই নার্সিংয়ের প্রথম বর্ষের পড়ুয়া সমাপ্তি রুইদাসের মৃত্যুর ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বেনিয়াপুকুর থানার পুলিশ। তবে এবার অভ্যন্তরীণ ভাবে তদন্ত করবে কলেজ কর্তৃপক্ষ। চার সদস্যের ওই টিমকে সাতদিনের মধ্যে রিপোর্ট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ কর্তৃপক্ষ।
শনিবার সকালে মেন ক্যাম্পাসের সার্জারি বিল্ডিংয়ের পাশে নার্সিং হস্টেলের পাঁচতলার ঘর থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার হয় সমাপ্তির দেহ। শুক্রবার রাতে বন্ধুদের সঙ্গে পিকনিকও করেছিলেন তিনি। ঘস্টেলের ঘরে থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করে পুলিশ। সেই নোটে সমাপ্তি বাংলা ভাষার প্রতি তাঁর আগ্রহ, বাংলা সাহিত্য নিয়ে পড়তে চাওয়ার ইচ্ছে এবং ইংরেজি মাধ্যমে নার্সিং পড়ার অসুবিধা ও তার জেরে মানসিক অবসাদের কথা লিখেছিলেন বলে জানায় পুলিশ।
কেন ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এখনও সঠিক কারণ জানা যায়নি। তবে পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনার চাপ এবং প্রতিনিয়ত শিক্ষিকাদের দুর্ব্যবহারেই ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ নার্সিংয়ের পড়ুয়াদের। হস্টেলের অনেকেই নাকি বাধ্য হয়ে মাঝপথেই পড়া ছেড়ে কলেজ থেকে চলে গিয়েছেন বলেও দাবি করেছেন ছাত্রীদের একাংশ। সারাক্ষণ পড়ুয়াদের তটস্থ হয়ে থাকতে হয় বলেও দাবি করেছেন পড়ুয়ারা।
ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজে নার্সিংয়ের পড়াশোনা হয় ইংরেজি মাধ্যমে। পড়ুয়াদের একাংশের অভিযোগ, কোনও ছাত্রী একটু কম ইংরেজি জানলে বা বুঝলে প্রকাশ্যেই সেইসব পড়ুয়াকে যাচ্ছেতাই ভাবে প্রতিদিন অপমান করেন শিক্ষিকাদের একাংশ। তাদের দাবি, সমাপ্তির ক্ষেত্রেও পড়াশোনার পথে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই ইংরেজি মাধ্যম। নানা কারণে হীনমন্যতায় ভুগছিলেন সমাপ্তি। পুলিশ সূত্রে খবর, দুর্গাপুজোর সময় বাড়ি গিয়ে সমাপ্তি সাফ জানিয়েছিলেন এভাবে পড়াশোনা চালিয়ে নিয়ে যেতে পারছেন না। তারপর খানিকটা বাড়ির লোকের জেদাজেদিতেই ফের কলেজে ক্লাস করতে আসেন তিনি।