দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক দূর্নীতি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত নীরব মোদীর চার চারটি সুইস ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করল। একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইডি সূত্রকে উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে। জানা গিয়েছে এই চারটি অ্যাকাউন্টের মধ্যে তিনটি ছিল নীরব মোদীর নামে এনং একটি বোন পুড়বী মোদীর সঙ্গে যৌথভাবে। প্রায় ২৮৩ কোটি টাকা ছিল এই চার অ্যাকাউন্টে।
৪৮ বছরের এই হীরে ব্যবসায়ী আপাতত দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের ম্যাজেস্টিস প্রিজন ওয়ান্ডসওয়ার্থে বন্দি রয়েছেন। বন্দি প্রত্যর্পণের মামলা চলছে তাঁর বিরুদ্ধে। ঘটনা চক্রে, বৃহস্পতিবারই তাঁর একটি মামলার শুনানি রয়েছে লন্ডনের একটি আদালতে। ভিডিয়ো কনফারেন্সের মাধ্যমে তিনি এই মামলার শুনানিতে থাকবেন বলে জানা গিয়েছে।
১৪ হাজার ৭০০ কোটি টাকার দুর্নীতির মামলা তাঁর বিরুদ্ধে। পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক কেলেঙ্কারির ঘটনা সামনে আসতেই দেশ ছাড়েন নীরব। বেশ কয়েক মাস তাঁর টিকি ছোঁয়া যায়নি। এর মধ্যেই গত ৯ মার্চ লন্ডনের রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায় নীরব মোদীকে। গায়ে মহার্ঘ জ্যাকেট। এরপর ২০ মার্চ ব্রিটিশ পুলিশ গ্রেফতার করে তাঁকে। দিল্লি থেকে লন্ডনে যায় কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের একটি বড় দল। আপাতত তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনাই চ্যালেঞ্জ ভারত সরকারের।
জামিনের আবেদন করতে গিয়ে লন্ডন হাইকোর্টে নীরব মোদী বলেন, তিনি ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে ব্রিটেনে আসেন। তখনও পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ ছিল না। ভারত চায় তাঁকে বন্দি করে দেশে ফিরিয়ে আনতে। তিনি সেই প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বলেন, ব্রিটেনে তাঁর বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নেই। সেখানে তিনি আইনসম্মতভাবে বসবাস করছেন। এখানে তিনি একটি পেশায় যুক্ত। সরকারকে ট্যাক্স দিয়ে থাকেন। রয়্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের বিচারপতি ইনগ্রিড সিমলার মন্তব্য করেন, এই মামলায় যতদূর প্রমাণপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে মনে হয়, অতীতে প্রমাণ ধ্বংস করা হয়েছিল। একটি ডিস্কে কিছু তথ্য ছিল। সেই তথ্যগুলি তদন্তকারীদের কাজে লাগত। সেই তথ্যগুলি নষ্ট করা হয়েছে। মনে হয় অভিযুক্ত ব্যক্তি কোনও জায়গা থেকে অর্থ পেয়ে থাকেন। তিনি আত্মসমর্পণও করেননি। জামিন না দেওয়ার পিছইনে বিচারপতিদের স্পষ্ট বক্তব্য ছি, ছাড়া পেলেই প্রমাণ লোপাট করতে পারেন নীরব।
এর মধ্যে নীরব মোদীর কয়েক হাজার কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নিউ ইয়র্কের আবাসন সিল করে দেওয়া হয়েছে। ডিনামাইট দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে মহারাষ্ট্রের আলিবাগের সমুদ্রতীরের বিলাসবহুল আলিশান বাংলো। এ বার বাজেয়াপ্ত হল সুইস অ্যাকাউন্টও।