দ্য ওয়াল ব্যুরো: সেভেন সিস্টার্স অফ স্টেটস। উত্তর-পূর্বের এই সাত রাজ্যে হঠাৎ করেই ফিরে আসছে ১৮৯৭ সালের স্মৃতি। ৮.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ গিয়েছিল অন্তত ১৬০০ মানুষের। ফের কি সেই ধরণের কোনও প্রকৃতির প্রকোপের দিন গুণছে অসম, মেঘালয়, মিজোরাম, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ ও মণিপুর! সম্প্রতি ত্রিপুরায় মাটির ফাটল দিয়ে ওঠা লাভা কিন্তু সে রকমই ইঙ্গিত দিচ্ছে।
সম্প্রতি ত্রিপুরার আগরতলার মধুবন এলাকায় ভূপৃষ্ঠের ফাটল দিয়ে লাভা জাতীয় পদার্থ বেরিয়ে এসেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রথমে এই পদার্থ দেখতে পান। কাঠালতলি গ্রামে রাস্তার ধারে ইলেকট্রিকের পোলের পাশে এই পদার্থ বেরিয়ে এসেছিল। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়ায় ওই এলাকায়। সঙ্গে সঙ্গে খবর দেওয়া হয় ত্রিপুরা স্পেস অ্যাপলিকেশন সেন্টার ( টিএসএসি )-এ। সেন্টারের কর্মীরা সেখানে পৌঁছে ওই পদার্থ তুলে নিয়ে গিয়েছেন। তাঁরা এই পদার্থ পরীক্ষা করে দেখবেন বলে জানা গিয়েছে।
তবে এই ঘটনা ত্রিপুরাতে প্রথম নয়। এই বছরই আগে আরও তিনবার এই ধরণের লাভা-জাতীয় পদার্থ মাটির নীচ থেকে বেরিয়ে এসেছিল। তিনটি ঘটনায় ঘটেছে রাজ্যের দক্ষিণ প্রান্তে সাবরুম এলাকাতে। এই এলাকা বাংলাদেশের চট্টগ্রামের বেশ কাছে।
এই ঘটনার পর ত্রিপুরা স্পেস অ্যাপলিকেশন সেন্টারের এক জিওলজিস্ট অভিষেক চৌধুরী জানিয়েছেন, "মধুবন এলাকা থেকে যে পদার্থ নিয়ে আসা হয়েছে, সেই পদার্থের জিও-কেমিক্যাল পরীক্ষা করে দেখার পরেই কোনও সিদ্ধান্তে আসা যাবে। তবে প্রাথমিকভাবে এই পদার্থের সঙ্গে সাবরুম এলাকায় পাওয়া পদার্থের বেশ মিল রয়েছে। সাবরুমে অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনার ফলেই ওই পদার্থ বাইরে বেরিয়ে এসেছিল। এখানেও সেরকম কিছু হয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করে তবেই বলা সম্ভব হবে।"
উত্তর পূর্বের এই সাত রাজ্য যথেষ্ট ভূমিকম্পপ্রবণ। ত্রিপুরা সহ পুরো উত্তর-পূর্বই ফল্ট লাইনের উপর রয়েছে। এখানে তিস্তা ফল্ট, ধুবড়ি ফল্ট, কোপিলি ফল্ট, সিলেট ফল্ট, দুধনোই ফল্ট প্রভৃতি ফল্ট লাইন রয়েছে। এছাড়াও এই এলাকা ইস্টার্ন বাউন্ডারি থ্রাস্ট ও মেন বাউন্ডারি থ্রাস্ট-এর মধ্যে অবস্থান করছে। উত্তর-পূর্ব ভারত সহ বাংলাদেশ, মায়ানমার, নেপাল ও ভূটানকে ১০টি সিসমিক জোনে ভাগ করা হয়। তার মধ্যে জোন- ৩, ৪, ৫ ও ৯ সরাসরি এই সাতটি রাজ্যের মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। তার ফলে ভূ-অভ্যন্তরে কোনও উদ্গীরণের ঘটনা ঘটলে ফাটল দিয়ে তা বাইরে বেরিয়ে আসে। এই ফাটল সূক্ষ্ম থেকে বড় হয়। সূক্ষ্ম ফাটল থাকলে তা দিয়ে ভূ-অভ্যন্তরের লাভা বেরিয়ে আসার সম্ভাবনা কম হয়। অর্থাৎ বোঝা যাচ্ছে, ফাটলের পরিমাণ বাড়ছে।
[caption id="attachment_105000" align="aligncenter" width="545"]
উত্তর-পূর্ব ভারতের সিসমিক মানচিত্র, ফল্ট লাইন ও সিসমিক জোন [/caption]
এই উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য বিশ্বের অন্যতম ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল। ভূমিকম্পের প্রবণতা ও তীব্রতা বিচার করে এই এলাকাকে বিশ্বের ষষ্ঠ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল বলা হয়। তাই ভূ-অভ্যন্তরে পাতের সঞ্চারণ হলে এই ফল্ট লাইনের মাধ্যমে ভূ-অভ্যন্তরের ম্যাগমা বাইরে বেরিয়ে আসবে। যার ভয়ঙ্কর পরিণতি হচ্ছে ভূমিকম্প।
১৮৯৭ সালেও একটি বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছিল পুরো উত্তর-পূর্ব। সম্প্রতি বেরিয়ে আসা লাভা কি আবার সেরকমই কোনও ইঙ্গিত দিচ্ছে। শঙ্কায় রয়েছেন ভূ-বিজ্ঞানীরা।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/international-news-more-than-500-infected-as-hiv-outbreak-sparks-panic-in-pakistan/