
শেষ আপডেট: 24 December 2018 09:04
যদিও চন্দ্রশেখরের এই উদ্যোগ নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক পরিসরে। পর্যবেক্ষকদের অনেকেই বলছেন, চন্দ্রশেখর ‘সোনার পাথরবাটি’র বিপণনে বেরিয়েছেন! বিক্রি হবে তো!
কেন সংশয় প্রকাশ করছেন পর্যবেক্ষকরা? তাঁদের বক্তব্য, বিজেপি বা কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রীয় ফ্রন্টের ধারনাটাই ‘অচল সিক্কা’। যে টুকু আশার আলো দেখতে শুরু করেছিলেন কেউ কেউ, হিন্দি বলয়ের তিন রাজ্যে কংগ্রেসের জয়ের পর, তা বেমালুম উবে গিয়েছে। মোদী বিরোধী জোটের নেতা হিসাবে রাহুল গান্ধীর নাম আগেই ঘোষণা করেছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু। পরে ডিএমকে নেতা এম কে স্ট্যালিন স্পষ্টতই ঘোষণা করেছেন যে, উনিশে মোদী বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাহুল গান্ধীই হবেন বিরোধী জোটের প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী। এমনকী তা নিয়ে অখিলেশ যাদব বা তণমূল কংগ্রেস আপত্তি করলেও, রবিবার ফের স্ট্যালিন বলেছেন, যা বলেছি ঠিক বলেছি। রাহুল গান্ধী ছাড়া বিকল্প নেই। যাঁরা এখনও রাহুলের নেতৃত্ব স্বীকার করছেন না তাঁরা রাজ্যস্তরে রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার জন্যই তা করতে পারছেন না। ভোটের পর তাঁরাও রাহুলের নেতৃত্বের কথাই মেনে নেবেন।
শুধু চন্দ্রবাবু বা স্ট্যালিন নন, শরদ পওয়ার, লালু প্রসাদের রাষ্ট্রীয় জনতা দল, উপেন্দ্র কুশহাওয়ার দল, জম্মু কাশ্মীরের জাতীয় কনফারেন্স সহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির অধিকাংশই এখন কংগ্রেসের নেতৃত্ব মেনে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছেন।
প্রশ্ন হল, এ কথা সবাই বুঝতে পারছেন, চন্দ্রশেখরের বোধগম্য হচ্ছে না?
নবান্নে মমতার সঙ্গে চন্দ্রশেখরের বৈঠকের আগে তৃণমূল সূত্রে বলা হচ্ছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে জাতীয় স্তরে বিরোধী রাজনীতির অন্যতম মুখ হয়ে উঠছেন তা এ সব ঘটনাতেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। চন্দ্রবাবু নায়ডু, চন্দ্রশেখর রাও, ফারুক আবদুল্লাহ সবাই এখন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে কলকাতায় আসছেন।
কিন্তু বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নান বলেন, “ফেডারেল ফ্রন্ট বলতে কোনও অস্তিত্বই নেই। যাঁরা এ কথা বলছেন, তাঁদের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী তথা বিজেপি-র তলে তলে আঁতাত রয়েছে। কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে বিরোধী জোট গড়ার কথা বলে আসলে মোদীকেই শক্তিশালী করতে চাইছেন তাঁরা।” মান্নান বাবুর কথায়, “এ ক্ষেত্রে চন্দ্রশেখর ও মমতার কোনও ফারাক নেই। দু’জনেই বিজেপি-র হয়ে কাজ করছেন।” একই মত পোষণ করেন সিপিএম পরিষদীয় দলের নেতা সুজন চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “নবীন পট্টনায়েক বিজেপি-র ঘোষিত বন্ধু। তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে বিজেপি নেতৃত্বের সখ্যও রাজনীতিতে সুবিদিত। আর চন্দ্রশেখর রাও খোলাখুলি সংসদে বিভিন্ন বিলে এখন মোদী সরকারকেই সমর্থন করেন। নইলে চন্দ্রশেখরের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতির তদন্তে কেন কেন্দ্রীয় সরকার তথা কেন্দ্রীয় এজেন্সিগুলি সক্রিয় নয়!”