দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদের তাবলিঘ-ই-জামাতদের থেকে করোনা সংক্রমণ ঠিক কতটা ছড়িয়েছে তার পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব দিল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের সাংবাদিক বৈঠকে যুগ্ম সচিব লব আগরওয়াল জানান, এখনও পর্যন্ত ১৭ টি রাজ্যে তবলিঘ-ই-জামাতদের থেকে সংক্রমণ ছড়িয়েছে। জামাত সদস্যদের সংস্পর্শে এসে পজিটিভ হয়েছেন ১০২৩ জন। দেশে এখনও পর্যন্ত ২৯০০-র বেশি মানুষ করোনা আক্রান্ত। অর্থাৎ মোট আক্রান্তের ৩০ শতাংশ সংক্রমণ ছড়িয়েছে নিজামুদ্দিনের মসজিদে যোগদানকারীদের থেকে।
তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, অসম, কর্ণাটক, উত্তরাখণ্ড, মহারাষ্ট্র-সহ মোট ১৭ টি রাজ্য সংক্রামিতের খোঁজ মিলেছে যারা দিল্লির মসজিদে উপস্থিত ছিল। বাংলা থেকেও ৭৩ জন ওখানে উপস্থিত ছিল। তবে তাদের মধ্যে এখনও কারও পজিটিভ ধরা পড়েনি বলেই খবর।
এদিন সকালেই বিদেশি জামাত সদস্যদের সংখ্যা নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য সামনে আসে। রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তের বহু মসজিদে লুকিয়ে ছিল বিদেশি তবলিঘ-ই-জামাত সদস্যরা। দিল্লি পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী ও সরকারি আধিকারিকদের একাধিক দল গত চারদিনে যে তথ্য জোগাড় করেছে, তাতে লুকিয়ে থাকা বিদেশি জামাত সদস্যদের সংখ্যা ৮০০-র বেশি।
এই সংখ্যা সামনে আসার পরই করোনা নিয়ে নতুন উদ্বেগ শুরু হয় রাজধানীতে। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, দিল্লির মধ্যে শুধু নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদের ছ’তলার ডরমেটরিতেই দু’শোর বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছে। কিন্তু শনিবার সকালে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি।
রাজধানীর পুলিশ সংবাদমাধ্যমকেও যে তথ্য দিয়েছে তাতে বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব দিল্লির মসজিদ থেকে ১০০ জন, দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি থেকে ২০০ জন দক্ষিণ ও পশ্চিম দিল্লি থেকে ১৭৭জনের খোঁজ মিলেছে।
দিল্লির নিজামুদ্দিন এলাকার মসজিদে তবলিঘ-ই-জামাতে যোগ দেওয়া ৯৬০ জন বিদেশি নাগরিককে চিহ্নিত করে বৃহস্পতিবারই তাদের কালো তালিকাভুক্ত করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক। শুক্রবার কেন্দ্রের তরফ থেকে জানানো হয় পৃথিবীর ৪১টি দেশ থেকে দিল্লির মসজিদে এসেছিল এই জামাত সদস্যরা। নতুন করে ৮০০-র বেশি অন্তরালে থাকা বিদেশির সন্ধান মেলার পর সংখ্যাটা আরও বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক তথ্য দিয়ে জানিয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে এসেছিল ৩৭৯ জন, বাংলাদেশ থেকে ১১০ জন, কিরঘিজস্তান থেকে ৭৭ জন, মায়ানমার থেকে ৬৩ জন এবং তাইল্যান্ড থেকে ৬৫ জন এসেছিল। এছাড়াও উত্তর আমেরিকা, ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জ-সহ মোট ৪১টি দেশের নাগরিকরা যোগ দিয়েছিল নিজামুদ্দিনের মসজিদের ধর্মীয় অনুষ্ঠানে।
গৃহমন্ত্রকের ইমিগ্রেশন বিভাগের তরফে বলা হয়েছে, এরা প্রত্যেকে ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিল। কিন্তু ভারতের আইন লঙ্ঘন করেছে। প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র।
দিল্লির মসজিদে যারা এসেছিল তাদের মধ্যে প্রথম ১১ জনের শরীরে করোনাভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া যায়। এই ১১ জন ইন্দোনেশিয়ার নাগরিক। তাদের পরীক্ষা হয় হায়দরাবাদে। তেলেঙ্গানায় ৬ জন করোনা আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে যারা দিল্লির ওই মসজিদে যোগ দিয়েছিল। মসজিদের প্রধান মৌলানারও হদিশ পাওয়া যাচ্ছিল না। যদিও তিনি এদিন অন্তরালে থেকে একটি ভিডিওবার্তায় বলেছেন, কোয়ারেন্টাইনে আছেন। অন্যদের পরামর্শ দিয়েছেন, চিকিৎসকদের কথা মতো চলতে।
নিজামুদ্দিনের ঘটনা সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্র। সব রাজ্যগুলিকে জরুরি ভিত্তিতে নির্দেশ দেয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও স্বাস্থ্যমন্ত্রক। বলা হয়, দ্রুত তাদের চিহ্নিত করে বিচ্ছিন্ন করতে হবে। এদিনের পরিসংখ্যানে স্বাস্থ্যমন্ত্রক জানালো দেশের মোট করোনা সংক্রমণের ৩০ শতাংশের উৎস তাবলিঘ-ই-জামাত।