দ্য ওয়াল ব্যুরো: উমফানের পর কলকাতা ও সংলগ্ল শহরতলি অঞ্চলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট নিয়ে এক সময়ে নবান্নে বসে সিইএসসি-র সমালোচনা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ ব্যাপারে মানুষের অসন্তোষ আঁচ করতে তাঁর দেরি হয়নি। এ বার বিদ্যুতের বিল নিয়ে সিইএসসি-র ভূমিকায় উষ্মা প্রকাশ করলেন খোদ বিদ্যুৎ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। বিদ্যুৎমন্ত্রী নিজেই জানিয়েছেন, তাঁর বাড়িতেও এ বার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশিই বিদ্যুতের বিল এসেছে।
বিষ্যুদবার সাংবাদিকদের বিদ্যুৎমন্ত্রী এও জানান, মাত্রাতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসা নিয়ে অভিযোগ জানাতে ইদানীং তাঁর বাড়িতে আকছার লোকজন লাইন দিয়ে আসছেন। এ ব্যাপারে সিইএসসি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তিনি কথাও বলেছেন। তবে এখনও কোনও সুরাহা হয়নি।
সাংবাদিকদের এসব জানানোর পাশাপাশি শোভনদেববাবু এক ভিডিও বার্তাতেও এ সব কথা বলেছেন। তবে সিইএসসি এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সিইএসসি এ ব্যাপারে কিছু জানালে তা প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।
এদিন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “সম্প্রতি কলকাতা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কর্পোরেশন বাড়িতে যে বিল পাঠাচ্ছে তাতে মানুষের মনের মধ্যে ভীষণ ভাবে প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। বিল বেশি হওয়ার জন্য আমার বাড়িতে সকালের দিকে লাইন দিয়ে লোক আসছেন। অসংখ্য মেল আসছে আমার কাছে। অনেকে ফোন করে জানতে চাইছেন যে তাঁরা কী করবেন এই অবস্থায়। অস্বাভাবিক বিল আসার খবর পাওয়ার পরে আমি সিইএসসির সঙ্গে যোগাযোগ করি।”
বিদ্যুৎমন্ত্রী জানান, বহু লোককে তিনি সিইএসসি অফিসেও পাঠিয়েছেন। কেন এত বিল এসেছে সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা করে দিতে বলেছেন সিইএসসিকে। সিইএসসি বিল বেশি হওয়ার যে কারণ ব্যাখ্যা করেছে তাতে যাঁরা সন্তুষ্ট হয়েছেন তাঁরা মেনে নিয়েছেন। যাঁরা সন্তুষ্ট হননি তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বাড়িতে অসংখ্য মানুষ অভিযোগ নিয়ে আসায় ফের তিনি সিইএসসিতে ফোন করেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
শোভনদেববাবু বলেন, “আমি সিইএসসিকে বলেছি যেন অতি অবশ্যই আগামী কালের মধ্যে সংবাদপত্রে তারা বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করে একটি বিজ্ঞাপন দেয় যাতে মানুষের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। সিইএসসি বিল বাড়ালে তার চাপ আমাকে কেন সহ্য করতে হবে? আমার বাড়িতেও যে বিল এসেছে তা অন্যান্য বারের চেয়ে অনেকটাই বেশি। আমি বলেছি সেটি রিভিয়্যু করতে হবে।”
তাঁর কথায়, আমার এই বিল দেওয়ার সামর্থ্য থাকলও লকডাউনে অনেকে কাজ হারিয়েছেন। অনেকে বেতনের পঁচিশ শতাংশ পাচ্ছেন। মানুষ অসহায় অবস্থার মধ্যে রয়েছেন। এর মধ্যে বিদ্যুতের বিল বেড়ে যাওয়ার জন্য গ্রাহকরা খুব অসহায় বোধ করছেন। তিনি বলেন, “সিইএসসির উচিত সঠিক পদক্ষেপ করা যাতে মানুষের সমস্যা না হয়।”
এদিকে বাড়তি বিদ্যুতের বিল নিয়ে ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ার ওয়ালে লোকজন লিখতে শুরু করেছেন। তাঁরা বিলের অঙ্ক জানিয়ে প্রতিকার চেয়েছেন। অনেকে এব্যাপারে শাসক দলের চুপ থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন। অনেকের মতে, এই অবস্থায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বিদ্যুৎমন্ত্রী হয়তো বোঝাতে চেষ্টা করলেন যে সরকার কোনওভাবে একে প্রশ্রয় দিচ্ছে না।