দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা আবহে দুর্গাপুজো ছিল নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ। দশমীর দিন বিসর্জনের ক্ষেত্রেও রয়েছে নিয়মের কড়াকড়ি। পুজো শুরুর আগেই সমস্ত পুজো কমিটিগুলিকে কলকাতা পুলিশের তরফে প্রতিমা নিরঞ্জন সম্পর্কে বিশেষ গাইডলাইন দেওয়া হয়েছিল। এবার অনেক বদল এসেছে প্রতিমা বিসর্জনের পদ্ধতিতে। নিয়মের কড়াকড়িতে বাঙালির বিজয়া দশমী এ বার একদম অন্যরকম।
মোট ৩০টি ঘাটে বিসর্জন দেওয়া যাবে। মূল ঘাটগুলির মধ্যে রাজাবাগান, নাদিয়াল, গার্ডেনরিচ এলাকায় একটি করে, দক্ষিণ বন্দর থানা এলাকায় তিনটি ও উত্তর বন্দর এলাকায় ১৮টিতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া যাবে। এছাড়াও রয়েছে ছ’টি ছোট ঘাট। সেখানেও প্রতিমা নিরঞ্জন সম্ভব। শহরের নির্ধারিত কোনও সরোবর বা পুকুরেও প্রতিমা বিসর্জন দিতে পারে বিভিন্ন পুজো কমিটি। পুজো শুরুর আগেই লালবাজার উদ্যোক্তাদের জানিয়ে দিয়েছিল যে, এ বছর প্রতিমা বিসর্জনের সময় কোনও শোভাযাত্রা করা চলবে না। মণ্ডপ থেকে প্রতিমা লরি বা ট্রেলারে তুলতে হবে। সরাসরি তা নিয়ে যেতে হবে বিসর্জন ঘাটে। কোনওরকম ভিড় বা শোভাযাত্রার অনুমতি দেওয়া হবে না এই বছর।
কোভিডের কারণে এবার নিষিদ্ধ সিঁদুর খেলাও। বিজয়া দশমীর দিন দেবী বরণের পাশাপাশি প্রতি বছরই জমজমাট ভাবে পালন হয় সিঁদুর খেলার রীতি। তবে এবার সেই নিয়মেও বদল এসেছে। সিঁদুর খেলা হবে না। সেই সঙ্গে প্রতিমা নিরঞ্জন দেখতে গঙ্গার ঘাটে জমায়েতও করা যাবে না। যে কোনও রকম ভিড় বা জমায়েত করতে বারবার পুলিশের তরফে বারণ করা হয়েছে। নিয়ম ভাঙলে নিয়ম লঙ্ঘনকারীর বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থাও নেওয়া হবে। এছাড়াও গঙ্গার ঘাটগুলির উপর কড়া নজর থাকবে পুলিশের। স্পিড বোট থেকে চলবে নজরদারি। ঘাট গুলিতে যাতে কোনও দুর্ঘটনা না হয় সেজন্য কড়া নিরাপত্তা থাকবে। যাঁরা প্রতিমা নিরঞ্জন করতে আসবেন তাঁদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।