দ্য ওয়াল ব্যুরো, উত্তর ২৪ পরগনা: করোনা সংক্রমণ রুখতে এবার ব্যবসা বন্ধ রেখে লকডাউনের পথে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিল উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতি। জেলা প্রশাসন তো বটেই, স্থানীয় পুরসভা লকডাউন ঘোষণা করলে যেখানে ব্যবসায়ীদের অসন্তুষ্ট হতে দেখা গেছে সেখানে এই সিদ্ধান্ত একেবারেই ব্যতিক্রমী। প্রশাসন এখানে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত ব্যবসায়ীদের নিজস্ব। এর সঙ্গে তাদের কোনও যোগ নেই। যদিও ব্যবসায়ীদের দাবি, প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে।
রাজ্যে কলকাতার পরে সবচেয়ে বেশি করোনা সংক্রামিত জেলা হল উত্তর ২৪ পরগনা। এই রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কনটেনমেন্ট জোনগুলিতে লকডাউন শুরু হওয়ার আগে এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট লিখিত প্রস্তাব নবান্নে পাঠিয়েছিল উত্তর ২৪ পরগনা জেলা প্রশাসন। সেই প্রস্তাব অনুমোদনের আগে থেকেই ভিড় হয় এমন দোকান বন্ধ করতে শুরু করে দিয়েছিল প্রশাসন। এই অবস্থায় বৃহস্পতিবার বসিরহাট মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতি জানিয়েছে, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য, শিশুদের কথা ভেবে দুধের দোকান প্রভৃতি খোলা রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বাকি সব বন্ধ রাখা হবে।
ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে বসিরহাট পুরসভার প্রশাসক তপন সরকার এবং বসিরহাটের মহকুমাশাসক বিবেক ভস্মের কাছে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে তাদের সিদ্ধান্তের কথা। তবে তাঁদের সঙ্গে একমত নয় প্রশাসন। তারা ঘুরিয়ে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতাই করেছে। প্রশাসনের তরফ থেকে জানানো হয়েছে মহকুমা ব্যবসায়ী সমিতি কী করবে সেটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। এর সঙ্গে প্রশাসন জড়িত নয়।
মহকুমার ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষ থেকে সুভাষ চৌধুরী বলেন, “আগামি কাল শুক্রবার থেকে টানা পাঁচ দিন ব্যবসা বন্ধের ডাক দিয়েছে ব্যবসায়ী সমিতি। আমাদের উদ্দেশ্য একটাই – যাতে লোকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে পারেন। মানুষকে সুস্থ রাখার জন্য সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য আমরা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” বসিরহাট মহকুমা বাজার কমিটির সম্পাদক বিশ্বনাথ দেবনাথ বলেন, “বসিরহাটে তো বহু লোক করোনায় আক্রান্ত। ব্যবসাদাররা চিন্তা করলাম কী ভাবে চেনটা কাটা যায়। তা করতে গেলে একমাত্র বাজার বন্ধ রাখা ছাড়া কোনও গতি নেই। তাই আমরা ব্যবসাদাররা তা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিলাম। পুরপ্রশাসনের সঙ্গে কথা বলেছি। সকলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই তা হয়েছে। তাদেরও সম্মতি আছে।” বসিরহাট পুরসভার প্রশাসক তপন সরকার বলেন, “না, আমরা লকডাউনের পক্ষে নই। এখন লকডাউন উঠে গেছে। আমরা শুধু কন্টেনমেন্ট জোনে লকডাউন করছি। কয়েকটা ওয়ার্ডে লকডাউন করা হয়েছে।”
ব্যবসায়ীদের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে শুধু প্রশাসন নয় একমত নন সাধারণ মানুষও। তাঁদের কথায়, আচমকা এই ধরনের কথা ঘোষণা করা বনধের শামিল। এর ফলে অনেকে সমস্যায় পড়বেন। অনেকেই শনিবার বা রবিবার সাপ্তাহিক বাজার ও দোকান করেন। আচমকা এই সিদ্ধান্তে তাঁদেরও মুশকিল হবে।