দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফন্দি এঁটেছিল ভালই। গত কয়েক বছর ধরে রমরমিয়ে চলছিল সেই কারবার। অবশেষে পুলিশ সেজে তোলাবাজি করতে গিয়ে পুলিশের জালেই ধরা পড়ল বহরমপুরের তৃণমূল নেতা বরুণ মাঝি। গ্রেফতার করা হয়েছে বরুণের আরএক শাগরেদকে। রবিবার রাতে দু’জনকে গ্রেফতার করে বহরমপুর থানার পুলিশ। সোমবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে মাটি বোঝাই এক ট্রাক চালকের থেকে বিপুল টাকা দাবি করে বরুণ ও তার এক সঙ্গী। ট্রাকচালক জানিয়ে দেন তিনি দিতে পারবেন না। অভিযোগ, এরপরই বহরমপুর শহরের অদূরেই ওই ট্রাকচালক ও খালাসিকে বেধড়ক মারধর করে বরুণরা। ট্রাকমালিক অভিযোগ জানান থানায়। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই এই দুই তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে দীর্ঘদিন ধরে পুলিশ পরিচয় দিয়ে লরি, ট্রাক থেকে টাকা তুলত বরুণ অ্যান্ড কোম্পানি। বরুণ নাকি আবার ডোমকল পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান তথা প্রয়াত প্রাক্তন সাংসদ মান্নান হোসেনের ছেলে সৌমিক হোসেনের ছায়াসঙ্গী। অনেকের অভিযোগ, তৃণমূল নেতার আশীর্বাদ নিয়েই এই তোলাবাজি চালাত বরুণ। দলকে দিত মোটা টাকা। বিরোধীদের বক্তব্য, পুলিশ জানত সবটাই। কিন্তু কিছুই করেনি। বরুণের সম্পত্তিও গত কয়েকবছরে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে খবর।
তাহলে হঠাৎ কেন গ্রেফতার? অনেকের মতে, মুর্শিদাবাদ জেলার তৃণমূলে সৌমিকের আর সেই দাপট নেই। জেলার রাজনীতিতে আবু তাহেরদের উত্থানে মান্নান-পুত্র কিছুটা কোণঠাসা। দলীয় কাউন্সিলরদের অনাস্থায় ডোমকল পুরসভার চেয়ারম্যান পদ থেকেও সরতে হয়েছে তাঁকে। জেলার রাজনৈতিক মহলের মতে, সৌমিক দূর্বল হতেই ব্যবস্থা নেওয়ার সাহস দেখাল পুলিশ। যদিও ধৃত দু’জনেই দাবি করেছে, তাদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে তৃণমূলের কোনও নেতাই সংবাদমাধ্যমের সামনে মুখ খোলেননি।