দ্য ওয়াল ব্যুরো: নভেম্বরের ৮ তারিখে ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বিতর্কিত জমিতে মন্দির নির্মাণের পক্ষেই রায় দিয়েছিল। একইসঙ্গে শীর্ষ আদালত বলেছিল, তিন মাসের মধ্যে অযোধ্যাতেই পৃথক ৫ একর জায়গা দিতে হবে মসজিদ নির্মাণের জন্য। এবং তা করতে হবে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে। উনিশের শেষ দিনেই উত্তরপ্রদেশ সরকার সূত্রে খবর, মসজিদ নির্মাণের জন্য ওই জায়গা দেখে ফেলেছে যোগী আদিত্যনাথের সরকার।
জানা গিয়েছে, অযোধ্যার মির্জাপুর, শামসুদ্দিনপুর ও চাঁদপুরে জমি দেখা হয়েছে। প্রত্যেকটি জায়গাই ৫ একর জুড়ে। সরকারি সূত্রে এও জানা গিয়েছে, যে জায়গাগুলি বাছা হয়েছে সেগুলি এবার দেখানো হবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে। তার মধ্যে থেকেই মসজিদ গড়ার জন্য জায়গা বেছে নেবে ওয়াকফ বোর্ড।
ঐতিহাসিক অযোধ্যা মামলার রায় দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ। রায় ঘোষণার পর মামলার অন্যতম পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড স্পষ্ট করে জানিয়েছিল, তারা রিভিউ পিটিশনের পথে হাঁটবে না। অযোধ্যা ইস্যুকে ‘ক্লোজড চ্যাপটার’ বলে উল্লেখ করেছিলেন ওয়াকফ বোর্ডের নেতারা।
কিন্তু তার কয়েক দিন পরই মুসলিম ল বোর্ড জানায়, এমন অনেকে আছেন যাঁরা হয়তো মামলার অংশীদার ছিলেন না কিন্তু তাঁরা নানা ভাবে এই মামলায় সাহায্য করেছেন। তাঁরা চাইছেন রিভিউ পিটিশন হোক। জামিয়াত উলেমা হিন্দের নেতা মৌলানা আরশাদ মাদানি সংবাদমাধ্যমকে বলেছিলেন, “আমরা জানি যে পিটিশন দাখিল করলেই তা খারিজ করে দেওয়া হবে। কিন্তু তাও আমরা পিটিশন করব। এটা আমাদের অধিকার।” সেই পিটিশন খারিজ করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে যে জায়গা বাছা হয়েছে তা কি আদৌ মেনে নেবে ওয়াকফ বোর্ড। নাকি ফের তৈরি হবে জটিলতা। হিন্দুত্ববাদীদের দাবি ছিল, অযোধ্যার একটি পৃথক সংস্কৃতি রয়েছে। সেখানে কোনও ভাবেই মসজিদ করতে দেওয়া যাবে না। এই জায়গাগুলিও মূল অযোধ্যা থেকে বেশ কিছুটা দূরে। এখন দেখার নতুন জটিলতা তৈরি হয় নাকি এর মধ্যে থেকেই পছন্দ করে নেয় সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।