দ্য ওয়াল ব্যুরো: লকডাউনের সময় ত্রাণ বিলিকে কেন্দ্র করে ৩ মে এক যুবককে প্রহার ও দু’সপ্তাহ পরে তাঁর মৃত্যুর জেরে কামারহাটির প্রাক্তন কাউন্সিলরের মা-বাবাকে ঘিরে বৃহস্পতিবার প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ দেখালেন এলাকার লোকজন। কাউন্সিলর এখনও পলাতক।
গত ৩ মে ত্রাণ বিলিকে কেন্দ্র করে কামারহাটির ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলরের নেতৃত্বে মারধর করা হয়েছিল সৌমেন দাস নামে এক যুবককে। অভিযোগ তেমনই। গুরুতর আহত ও অসুস্থ হয়ে বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পরে গত ১৯ মে মৃত্যু হয় সৌমেনের। এর পরেই বেলঘরিয়া উত্তর বাসুদেবপুর অঞ্চলের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধ বেধে যায় পুলিশের। এই ঘটনার পর থেকেই পলাতক অভিযুক্ত প্রাক্তন কাউন্সিলর রুপালি সরকার ও তাঁর পরিবারের লোকজন। বৃহস্পতিবার দুপুরের পরে রূপালি সরকারের বাবা রঞ্জিত সরকার ও মা রাখি সরকার বেলঘরিয়ার বাড়িতে ঢুকতেই বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তখনই বেলঘরিয়া থানার পুলিশ হাজির হয় উত্তর বাসুদেবপুর অঞ্চলে। তখন ন্যায় বিচারের দাবিতে পুলিশকে ঘিরেও চলে বিক্ষোভ। দীর্ঘ প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পরে অবশেষে পুলিশের হস্তক্ষেপে তা উঠে যায়। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছেন, প্রশাসনের ওপর আস্থা রেখেই তাঁরা বিক্ষোভ প্রত্যাহার করলেন তবে পুলিশের ভূমিকা উপযুক্ত নয় দেখলে আগামী দিনে তাঁরা বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন বলে হুমকি দিয়ে রেখেছেন।
উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁর ধর্মপুকুরিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের শুকপুকুরিয়া গ্রামের পঞ্চায়েত সদস্য গোপাল দের বিরুদ্ধে উমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন এলাকার লোকজন। দুর্নীতির অভিযোগে ওই তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যের বাড়ির সামনে ঝাঁটা, জুতো প্রভৃতি নিয়ে বিক্ষোভ দেখান গ্রামবাসীরা। ওই পঞ্চায়েত সদস্যর ছেলেকে মারধরও করেন বলে অভিযোগ।
গোপাল দে বিরুদ্ধে অভিযোগ, উমফানে একই পরিবারের দু’জন ক্ষতিপূরণ পেয়েছে – এমন দৃষ্টান্ত থাকলেও অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া সত্ত্বেও ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। পঞ্চায়েত সদস্য গোপাল দেকে বাড়িতে না পেয়ে তাঁর ছেলে উত্তম দেকে মারধর করেন গ্রামবাসীরা। যদিও গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন উত্তম দে তার মাকে মারধর করছিল বলেই তাকে পাল্টা মারধর করা হয়েছে।
অভিযুক্ত পঞ্চায়েত সদস্য গোপাল দে বলেন, “আমি কোনও রকম দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নই তা সত্ত্বেও গ্রামের বাসিন্দারা আমার ছেলেকে মারধর করেছে।”
এদিন উমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের টাকা তছরুপ এবং পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের দাবিতে আমডাঙা বিডিও অফিসের সামনে বামফ্রন্টের বিক্ষোভ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে তুলকালাম কাণ্ড বেধে যায়। বিক্ষোভে যোগ দিয়ে দুষ্কৃতীদের হাতে লাঞ্ছিত হন সিপিএম বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। এই ঘটনার জেরে বেশ কিছুক্ষণ ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বামফ্রন্ট কর্মীরাই তন্ময় ভট্টাচার্যকে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যান।
মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সর্বদলীয় বৈঠকে উমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন বিরোধীরা। বৃহস্পতিবার তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব জেলা পরিষদের সভাধিপতিদের জানিয়ে দিয়েছে যাতে উমফানে ক্ষতিপূরণ নিয়ে কোনও রকম দুর্নীতি বরদাস্ত করা না হয়।