দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ট্র্যাকে ঝড় তুললেন সোনার মেয়ে, জিতেও নিলেন আরও একটি সোনা। এই নিয়ে মাত্র ১৫ দিনে চার চারটি সোনা জিতে নিলেন অসমের ‘ঢিং এক্সপ্রেস’ হিমা দাস। বুধবার চেক প্রজাতন্ত্রের টাবোর অ্যাথলেটিক্স মিটে ২০০ মিটার রেসে সোনা ছিনিয়ে নিয়ে সব চেয়ে এগিয়ে দিলেন ভারতের নাম। ২ জুলাই থেকে ধরলে ১৯ বছর বয়সি হিমার এটা চতুর্থ সোনা জয়। যার শুরুটা হয়েছিল ইউরোপ থেকে।
বুধবার চেকে ২০০ মিটার রেস সম্পূর্ণ করতে তিন সময় নেন ২৩.২৫ সেকেন্ড। যদিও এর আগে এই দৌড়ে তাঁর ব্যক্তিগত রেকর্ড রয়েছে ২৩.১০ সেকেন্ডের। কিন্তু নিজের থেকে ০.১৫ সেকেন্ড পিছিয়ে গিয়েও, বিশ্বের দরবারে এগিয়ে যান হিমা। যদিও ওই রেসে দ্বিতীয় হয়ে রুপো জিতে নিয়েছেন ভারতেরই আর এক অ্যাথলিট, ভিকে বিস্ময়। তিনি সময় নেন ২৩.৪৩ সেকেন্ড।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটা দৌড়ের সঙ্গে সময় কমছে হিমার। এটা ভালো ইঙ্গিত এই ভারতীয় স্প্রিন্টারের জন্য। যদিও বিশ্ব অ্যাথলেটিক্স মিটের ২০০ মিটারের সেরা যোগ্যতামান এখনও অর্জন এখনও করে উঠতে পারেননি হিমা। সেখানে যোগ্যতা অর্জন করতে হলে ২০০ মিটারের রেস শেষ করতে হবে ২৩.০২ সেকেন্ডে। কিন্তু হিমা যে ভাবে এগোচ্ছেন, তাতে এই লক্ষ্য বোধ হয় আর খুব বেশি দূরে নয়।
গত বছরেই অ্যাথলেটিক্সের জগতে উল্কার গতিতে প্রবেশ করেছিলেন হিমা। ওয়ার্ল্ড জুনিয়র চ্যাম্পিয়নশিপে ২৩.১০ সেকেন্ডে ২০০ মিটার দৌড়ে সোনা পেয়েছিলেন তিনি। ওই এক দৌড়েই আসমুদ্র হিমাচল ফ্যান হয়ে গিয়েছিল অসমের এক ছোট্ট গ্রামের 'চাষার বেটি'র।
কিন্তু দেশ থেকে অনেক দূরে, একের পর এক সোনা জিতে যখন বিশ্বের দরবারে দেশের নাম উজ্জ্বল করছেন হিমা দাস, তখনই ভয়াবহ বন্যায় বিধ্বস্ত তাঁর নিজের রাজ্য অসম। তাই এ সব কিছুর পাশাপাশি, একের পর এক সোনা জয়ের গৌরবে দেশকে এগিয়ে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ভূমিরাজ্য অসমে প্রবল বন্যা নিয়েও উদ্বিগ্ন তিনি।

ইন্ডিয়ান অয়েল কর্পোরেশনের কর্মী হিমা ইতিমধ্যেই তাঁর বেতনের অর্ধেক অংশ দান করেছেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে।
টুইট করেও তিনি সকলকে বন্যার্তদের পাশে দাঁড়ানোর আবেদনও জানান তিনি। তিনি লেখেন, “আমাদের রাজ্য অসমে ভয়ঙ্কর বন্যা হচ্ছে। রাজ্যের ৩৩টি জেলার মধ্যে ৩০টি জেলাই আক্রান্ত। আমি বড় কর্পোরেটের পাশাপাশি ব্যক্তি বিশেষের কাছেও সাহায্য করার জন্য আবেদন করছি। দয়া করে এই অবস্থায় আমাদের পাশে এসে দাঁড়ান।”
https://twitter.com/HimaDas8/status/1151031705962196993
এই মুহূর্তে অসমের বন্যায় ৪৬ লক্ষ ২৮ হাজার মানুষ আক্রান্ত বলে জানা গিয়েছে। মৃতের সংখ্যা ১৫ ছাড়িয়েছে। অসমের বিপর্যয় মোকাবিলা দফতর থেকে জানানো হয়েছে, চার হাজারেরও বেশি গ্রাম বন্যায় ভেসে গিয়েছে। ৯০ হাজার হেক্টর কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত। ১০ লক্ষ পশুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাজিরাঙা জাতীয় উদ্যানের ৯০ শতাংশ জমিই জলের তলায়।