দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতা লিগে ওয়াক ওভারের ‘লজ্জার’ পরও একাংশের ইস্টবেঙ্গল সমর্থক সোশ্যাল মিডিয়ার দেওয়াল ভরাতেন ‘আই অ্যাম উইথ কোয়েস’ লিখে। কিন্তু গোকুলামের কাছে কল্যাণীতে ৩ গোল হজম করার পর যেন সব ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে গেল সমর্থকদের। কল্যাণী স্টেডিয়ামেই কোয়েস ইস্টবেঙ্গলের সিইও সঞ্জিত সেনকে ধরে বিক্ষোভ দেখাল লাল-হলুদ সমর্থকরা। অভিযোগ, একাংশের সমর্থক ‘শারীরিক হেনস্থা’ করেছেন সঞ্জিতকে।
সমর্থকদের বক্তব্য, এই দল করেছে বিনিয়োগকারী সংস্থা কোয়েস। কোচের পছন্দ মতো প্লেয়ার দিয়ে তারাই টিম সাজিয়েছে। কিন্তু এই যে ফুটবল ইস্টবেঙ্গল খেলছে, তা চোখে দেখা যায় না বলেই মত তাঁদের। এক সমর্থকের কথায়, "আমরা এর আগে কর্তাদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখিয়েছি। কিন্তু এবারের টিমে তাঁদের কোনও হাত নেই। সঞ্জিত সেনরাই সবাইকে বাদ দিয়ে দল গড়েছে। যা হওয়ার তাই হয়েছে।"
ইস্টবেঙ্গল-কোয়েস ৩১ মে পর্যন্তই সম্পর্ক। গতকাল বেঙ্গালুরুর বোইঠকেও মোটামুটি বিচ্ছেদের বিষয় চুড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু টিমের হার যেন সমস্ত ক্ষোভের জ্বালামুখ খুলে দিল। শতবর্ষে একটিও ট্রফি আসেনি। ময়দানের অনেকেই বলছেন, শুধু যে কর্পোরেট দিয়ে ফুটবল হয় না কোয়েসের ইস্টবেঙ্গলে আসা তা আরও একবার দেখিয়ে দিল।
এদিন বিক্ষোভ, ধাক্কাধাক্কি এমন জায়গায় যে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশকর্মীদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়। পরে অবশ্য সঞ্জিত সেনকে সমর্থকদের মধ্যে থেকে সরিয়ে নিয়ে যান পুলিশকর্মীরাই। ভিড়ের মধ্যে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে।
এক বর্ষীয়ান সমর্থকের কথায়, "আজ কোয়েস আছে, কাল চলে যাবে। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল থেকে যাবে। আর আমাদের সমর্থক হিসেবে শতবর্ষে ট্রফিহীন থাকার যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকতে হবে। ক্ষোভ তো অস্বাভাবিক কিছু না!"