দ্য ওয়াল ব্যুরো: সিকিম সরকারের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদে মুখর হলেন ভারতীয় ফুটবলের অন্যতম নামী ব্যক্তিত্ব বাইচুং ভুটিয়া। তিনি সিকিমের ঘরের ছেলে, ওখানকার মানুষের আবেগের সঙ্গে পরিচিত। সেই কারণে বাইচুং জানেন সিকিমে ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের খেলার মাঠ কতটা জরুরী।
যদিও সম্প্রতি সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং গোলে জানিয়েছেন, তিনি ৩০০ শয্যার একটি হাসপাতাল গড়বেন দক্ষিণ সিকিমের নামচির কাছাকাছি একটি মাঠে। যেটি ওই অঞ্চলের একমাত্র খেলার মাঠ।
সেই নিয়ে প্রতিবাদ করেছেন বাইচুং। তিনি সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ‘‘সিকিমের তো আরও অনেক জায়গা রয়েছে, যেখানে হাসপাতাল গড়ে তুলতে পারতেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বেছে বেছে কেন খেলার মাঠকে নষ্ট করতে যাচ্ছেন, এতে করে তিনি কী প্রমাণ করতে চাইছেন?’’
বাইচুং এই কথা বলার পরেই অবশ্য মুখ্যমন্ত্রীর পার্টি সিকিম ক্রান্তিকারী মোর্চার সমর্থকরা বাইচুংয়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন। লকডাউনের মধ্যেই বাইচুংয়ের ছবি পোড়ানো হয়, তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া হয় যে, বাইচুং সিকিমেরই শত্রু।
এই নিয়ে ভারতীয় ফুটবলের প্রাক্তন সুপারস্টার বলেন, ‘‘কারা আমার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করল, আমার তাতে কিছু যায় আসে না। ওরা সিকিমের মানুষ নন, সাধারণ মানুষ আমার পাশেই রয়েছেন। আর আমি যা বলেছি, ঠিকই বলেছি। খেলার মাঠ বলতে রয়েছে মাত্র দুটি। একটা আমার নামাঙ্কিত নামচিতে বাইচুং ভুটিয়া স্টেডিয়াম। আর বাকি ছিল ওই বড় মাঠটা, সেখানে বাচ্চাদের ট্রেনিং করানো হতো। সেটিকেও হাসপাতাল করে ফেলা হচ্ছে।’’
বাইচুং এই মুহূর্তে রয়েছেন মুম্বইতে, তিনি গিয়েছেন ইউরো কাপ ফুটবলের ধারাভাষ্য দিতে। মুম্বই থেকে ধারাভাষ্য দেবেন ভারতীয় ফুটবলের কিংবদন্তি।
তিনি মুম্বই থেকেই জানিয়েছেন, ‘‘সিকিম সরকার কেন হাসপাতাল গড়তে চাইছে বোঝা যাচ্ছে না। একটা হাসপাতাল গড়তে খরচ প্রায় ৫০০ কোটি টাকা। সরকার বাজেট দিয়েছে মাত্র ৮০ কোটি, এটিতে কী হবে! আর তাছাড়া সিকিমের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তেমন ছেলেমেয়ের অভাব, যারা হাসপাতালে কাজ করতে পারবেন। বাইরে থেকে লোক এনে হাসপাতালে কাজ দেওয়া মানে স্থানীয়দের বঞ্চিত করা হবে।’’
বাইচুং এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘‘সরকার কোভিড মোকাবিলার জন্য ভাল করে টিকাকরণ কর্মসূচি নিতেই পারল না। এখন হাসপাতালের কথা বলে সস্তা প্রচার পেতে চাইছে।’’