দ্য ওয়াল ব্যুরো: এশিয়া কাপের ফাইনালে হারের বদলা নিল বাংলাদেশ। অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতকে হারিয়ে প্রথমবারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হল তারা। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে জয় পেল বাংলাদেশ।
এদিন টসে জিতে বল করার সিদ্ধান্ত নেন বাংলাদেশের অধিনায়ক আকবর আলি। প্রথমেই ভারতকে ধাক্কা দেন অভিষেক দাস। ২ রানের মাথায় দিব্যাংশকে আউট করেন তিনি। তারপরে তিলক বর্মার সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়েন যশস্বী জয়সওয়াল। খুব ধীর গতিতে রান করতে থাকেন তাঁরা। বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে বড় শট খলতে পারছিলেন না ভারতীয় ব্যাটসম্যানরা।
৩৮ রানের মাথায় তাঞ্জিম শাকিবের বলে আউট হন তিলক। তারপর আর বেশি পার্টনারশিপ তৈরি হয়নি। ধ্রুব জুরেলের ২২ রান ছাড়া বাকি ব্যাটসম্যানরা কেউ ডবল ডিজিটে যেতে পারেনি। একাই লড়াই করলেন যশস্বী জয়সওয়াল। কিন্তু অন্য কোনও সতীর্থের সাহায্য পেলেন না তিনি। শেষ পর্যন্ত ৮৮ রানের মাথায় যশস্বী আউট হতেই ভারতের সব প্রতিরোধ ভেঙে পড়ে। ৪৭.২ ওভারে ১৭৭ রানে অলআউট হয়ে যায় ভারত।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভাল করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমন ও তানজিদ হাসান দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন। তাঁদের আরও সুবিধা করে দেয় ভারতীয় পেস বোলারদের অনিয়ন্ত্রিত বোলিং। প্রথম কয়েক ওভারেই ওয়াইড-নো-এর দৌলতে অনেক রান দিয়ে দেন কার্তিক ত্যাগি, আকাশ সিংরা। বিনা উইকেটেই ৫০ রান তোলে বাংলাদেশ।
দেখে মনে হচ্ছিল সহজেই হয়তো বিশ্বকাপ জিতে যাবে বাংলাদেশ। কিন্তু তখনই ভারতের অধিনায়ক প্রিয়ম গর্গ বল তুলে দেন স্পিনার রবি বিষ্ণোইয়ের হাতে। বল হাতে কামাল করলেন বিষ্ণোই। পরপর চার উইকেট তুলে নেন তিনি। ৫০ রানে শূন্য উইকেট থেকে ৬৫ রানে চার উইকেট পড়ে যায় বাংলাদেশের।
ওপেনার ইমন হ্যামস্ট্রিংয়ে চোট পেয়ে বাইরে চলে যাওয়ায় আরও চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। তারপর বল হাতে কামব্যাক করেন সুশান্ত মিশ্র। তিনিও এসে ২ উইকেট তুলে নেন।
চাপের মধ্যে ফের ব্যাট করতে নামেন ইমন। অন্যদিকে ছিলেন অধিনায়ক আকবর আলি। তাঁর সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়লেন ইমন। ধীরে ধীরে দলের রানকে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন তাঁরা। ৪৭ রানের মাথায় ইমনকে আউট করে ভারতকে ফের ম্যাচে ফেরান যশস্বী জয়সওয়াল।
বাকি সময়টা দায়িত্ব নিয়ে খেললেন অধিনায়ক আকবর আলি। শেষদিকে বৃষ্টি হওয়ায় ডাকওয়ার্থ লুইস নিয়মে বাংলাদেশের টার্গেট আরও কমে যায়। শেষ পর্যন্ত ৩ উইকেটে ম্যাচ জিতে যায় বাংলাদেশ। আকবর আলি ৪৩ ও রাকিবুল হোসেন ৯ করে অপরাজিত থাকেন।
এই জয়ের ফলে অনূর্ধ্ব ১৯ বিশ্বকাপে প্রথমবার ফাইনালে পৌঁছে চ্যাম্পিয়ন হল বাংলাদেশ। এক নতুন জন্ম হল বাংলাদেশ ক্রিকেটের। সেইসঙ্গে রেকর্ড পাঁচবার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারাল ভারত।