দ্য ওয়াল ব্যুরো: কলকাতার ট্যাংরা অঞ্চলে বাবাকে খুন করার অভিযোগ উঠল ছেলের বিরুদ্ধে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের নাম রাজা দাস। তাঁকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রাজা দাসের মা-ই তাঁর বিরুদ্ধে স্বামীকে খুনের অভিযোগ এনেছেন।
জানা গিয়েছে, পড়াশোনায় বরাবর মেধাবী এবং কৃতি ছাত্র ছিলেন রাজা। এম.কম পাশও করেছিলেন তিনি। কিন্তু চাকরি না পাওয়ায় ক্রমশ অবসাদগ্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন রাজা। হতাশা আর অবসাদের পাশাপাশি ক্রমশ নেশাসক্তও হয়ে পড়েন তিনি। মদ খেয়ে রাত করে বাড়ি ফেরা নিয়ে নিত্যদিন বাবা বাবু দাসের সঙ্গে তুমুল অশান্তি হতো তাঁর। রবিবার রাতেও তাঁদের মধ্যে প্রবল অশান্তি হয়। মায়ের সঙ্গেও ঝগড়া হয় রাজার।
মরিতের স্ত্রী শোভাদেবী জানিয়েছেন, গতকাল রাতে ঝগড়ার সময় মা-বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল রাজা। প্রাণের ভয়ে তাই গতকাল রাতে প্রতিবেশীর বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন শোভাদেবী। আজ সকালে তিনি দেখেন বাড়ির বারান্দায় নিথর হয়ে পড়ে রয়েছেন স্বামী। নাকের কাছে জমাট বেঁধে রয়েছে রক্ত। এমন দৃশ্য দেখে প্রতিবেশীদেরও সন্দেহ হয়। তাঁরা খবর দেন পুলিশে। স্বামীর খুনের জন্য ছেলেকেই দায়ী করেছেন শোভাদেবী।
ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে দেহ। কীভাবে রাজা দাস তাঁর বাবাকে খুন করেছেন ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে তবে তা স্পষ্ট হবে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, হয়তো হতাশার কারণেই বাবাকে খুন করেছে রাজা। গতকালে রাতে অভিযুক্ত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
প্রতিবেশীরাও জানিয়েছেন নিত্যদিন মা-বাবার সঙ্গে ঝগড়া-অশান্তি লেগেই থাকত রাজার। এর আগেও মা-বাবাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে শাসিয়েছিল সে। গতকাল রাতে ছেলের থেকে শাসানি পেয়ে প্রতিবেশীর বাড়িতে আশ্রয় নেন শোভাদেবী। তাঁর অভিযোগ, তিনি না থাকার সুযোগেই বাবাকে খুন করেছে রাজা। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান সম্ভবত শ্বাসরোধ হওয়ার কারণে মৃত্যু হয়েছে বাবু দাসের। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে তা পুলিশের কাছে এখনও স্পষ্ট নয়। কেনই বা রাজা তাঁর বাবাকে খুন করেছেন তা জানতে জেরা করা হচ্ছে অভিযুক্তকে। তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে মৃতের স্ত্রী এবং প্রতিবেশীদেরও।