দ্য ওয়াল ব্যুরো: কৃষকদের দুর্দশা দেখে আত্মঘাতী হলেন হরিয়ানার একটি গুরুদ্বারের শিখ ধর্মগুরু রাম সিং। তাঁর বয়স হয়েছিল ৬৫ বছর। সুইসাইড নোটে তিনি কৃষকদের দুর্দশার কথা উল্লেখ করে গিয়েছেন। এই খবরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে কৃষকদের অবস্থান আন্দোলনে।
রাম সিং তাঁর সুইসাইড নোটে লিখেছেন, "আমিও কৃষকদের আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলাম তাঁদের প্রতি সমর্থন জানাতে। সরকার অবিচার করছে। কৃষকরা যে ভাবে রাতের পর রাত প্রবল দুর্দশার মধ্যে খোলা আকাশের নীচে বসে রয়েছেন তা কল্পনা করা যায় না। তাঁরা তাঁদের অধিকারের দাবিতে আন্দোলন করছেন। কিন্তু সরকার কর্ণপাতই করছে না। কৃষকদের দুর্দশা দেখে আমার কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। তাই আমি নিজের জীবন উত্সর্গ করলাম।"
ধর্মগুরুর আত্মহত্যা স্বাভাবিক ভাবেই পাঞ্জাব হরিযানা থেকে দিল্লি সীমান্তে যাওয়া কৃষকদের মধ্যে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আত্মহত্যার ঘটনা অন্য ভাবাবেগ তৈরি করতে পারে।
রাহুল গান্ধী বাবা রাম সিংয়ের আত্মহত্যার ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগে প্রাক্তন কংগ্রেস সভাপতি লিখেছেন, "ইতোমধ্যেই অনেক কৃষক জীবন উত্সর্গ করেছেন। মোদী সরকার বর্বরতার সমস্ত সীমা অতিক্রম করে গেছে। একগুঁয়েমি ছেড়ে এক্ষুণি কৃষিবিরোধী আইন প্রত্যাহার করুন!"
https://twitter.com/RahulGandhi/status/1339233266318995459
ধর্মগুরুর আত্মহত্যার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন পাঞ্জাবের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা শিরোমণি আকালি দলের নেতা সুখবীর সিং বাদল। এমনিতেই কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্র্তিবাদ জানিয়ে এনডিএ ছেড়ে বেরিয়ে এসেছে আকালি দল। মন্ত্রিত্ব ছেড়েছেন সুখবীরের পুত্রবধূ হরসিমারত কৌর। সুখবীর নিজেও পদ্মবিভূষণ সম্মান ফিরিয়ে দিয়েছেন।
বুধবার একুশ দিনে পড়ল কৃষকদের বিক্ষোভ। সরকারের সঙ্গে হাফ ডজন আলোচনাতেও বরফ গলেনি। কৃষকদের দাবি একটাই, আইন বাতিল করতে হবে। সরকার সংশোধনের প্রস্তাব দিলেও তা মানেনি কৃষক সংগঠনগুলি।