দ্য ওয়াল ব্যুরো: দু'দিন আগেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে ছাত্র সংসদ ভোট হবে ১৯ ফেব্রুয়ারি। ভোটের আগে যখন ঠিক দেড় মাস বাকি, তখন বড়সড় সাংগঠনিক ধাক্কার মুখে এসএফআই। ছাত্র সংগঠন ও সিপিএমের কলকাতা জেলা নেতৃত্বের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলে সংগঠনের বিশ্ববিদ্যালয় আঞ্চলিক কমিটির সম্পাদকের কাছে জমা পড়ল গণইস্তফা পত্র। জানা গিয়েছে, যে চিঠিতে সই করেছেন ৩০-এর বেশি এসএফআইয়ের মুখিয়া নেতানেত্রী। যা নিয়ে ছাত্র সংসদ ভোটের আগে ঘুম ছোটার অবস্থা দীনেশ মজুমদার ভবনের।
দীর্ঘ চিঠিতে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তুলেছেন ক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা। যার মধ্যে অন্যতম ধর্ষণের অভিযোগ। সেই অভিযোগ পাওয়ার পরও দীর্ঘদিন ধরে সিপিএমের কলকাতা জেলা কমিটি হাত গুটিয়ে বসে রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। চার মাস কেটে গেলেও তদন্ত কমিশন কোনও রিপোর্ট প্রকাশ করেনি বলে লেখা হয়েছে ওই চিঠিতে।
এখানেই শেষ নয়। একাধিক এসএফআই নেতার রক্ষণশীল মানসিকতা নিয়েও তোপ দাগা হয়েছে ইস্তফাপত্রে। ছাত্রীদের পোশাক, ধূমপান, ইত্যাদি নিয়েও বেশ কিছু এসএফআই নেতা দিনের পর দিন বিরূপ মন্তব্য করে গিয়েছে বলে তীক্ষ্ণ বাক্য লেখা হয়েছে।
এমনকি সিপিএমের মধ্যে কেন উচ্চবর্ণের নেতারাই দলের শীর্ষ জায়গায় রয়েছেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বাক্ষরকারীরা। জুটার কয়েকজন অধ্যাপক নেতার বিরুদ্ধেও ক্ষোভ উগরে দেওয়া হয়েছে ওই চিঠিতে। তাতে অভিযোগ করা হয়েছে, সংগঠনের মধ্যে গোষ্ঠী তৈরি করতে জুটার কয়েকজন অধ্যাপকের ভূমিকাও কোনও ভাবেই বাদ দেওয়া যায় না। যদিও কারও নাম করা হয়নি সেখানে।
গোটা পরিস্থিতি নিয়ে এসএফআইয়ের কলকাতা জেলা সম্পাদক তথা রাজ্য সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য সমন্বয় রাহার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তিনি স্পষ্ট বলেন, "সংবাদমাধ্যমে সংগঠনের বিষয়ে আমি একটি শব্দও বলব না।"
যদিও বিক্ষুব্ধ এসএফআই নেতানেত্রীরা এও বলছেন, এই চিঠির মানে এই নয় তাঁরা বামপন্থার আদর্শ থেকে সরে যাচ্ছেন। চিঠিতে স্বাক্ষরকারী এক ছাত্রীর কথায়, "লালঝাণ্ডার নীচেই থাকব। কিন্তু আরএসএস মানসিকতার নেতাদের নেতৃত্বে কমিউনিস্ট আদর্শ নিয়ে সংগঠন করা যায় না।" তাঁর কথায়, "যে সংগঠন প্রগতিশীল মুক্ত চিন্তার পক্ষে সওয়াল করে, তারাই আবার মেয়েদের পোশাক ধূমপান নিয়ে কথা বলবে-- এই দ্বিচারিতা চলতে পারে না।"
সব মিলিয়ে বড় চাপে এসএফআই। মাস খানেক আগে আর্টস ফ্যাকাল্টির ফেস্টে খাবার দুর্নীতি সামনে আসার পরই দ্বিধাবিভক্ত হওয়ার ছবি প্রকট হয়েছিল। কিন্তু এই চিঠি দেখে অনেকেই বলছেন, নজিরবিহীন গণইস্তফা। সাম্প্রতিক অতীতে এমন ঘটনা ঘটেইনি বাম ছাত্র সংগঠনে।
ছবি- ফাইল চিত্র