
শেষ আপডেট: 20 July 2021 10:41
রাশিয়ার ল্যাবরেটরিতে তৈরি হয়েছে এই যান্ত্রিক হাত। প্রোটন রকেটে চাপিয়ে আন্তর্জাতিক স্পেস স্টেশনের দরজায় পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন পৃথিবীর কক্ষে স্পেস স্টেশনের সামনেই বিশাল মুঠো পাকিয়ে পাহারা দেবে। স্পেস স্টেশনের দিকে উড়ে আসা রকেট এই হাতেই ল্যান্ড করবে। মহাকাশচারীদের যাবতীয় জিনিসপত্র, ভারী পেলোড রকেট থেকে স্পেস স্টেশনের ভেতরে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব এই হাতের।
যান্ত্রিক হাতের কাজ অনেক। মহাকাশে গতি হারিয়ে ফেলা মহাকাশযান বা রকেটকে দুর্ঘটনার হাত থেকে বাঁচাবে। মুঠো বাড়িয়ে বিপদে পড়া রকেটকে ধরে নেবে লহমায়। তাছাড়া স্পেস ওয়াকের সময় নভশ্চরদের বিশেষ কাজে আসবে এই রোবোটিক আর্ম। মাধ্যাকর্ষণ-শূন্য বা মাইক্রোগ্র্যাভিটির মধ্যে শরীর ভাসিয়ে হেঁটে চলা দুঃসাহসিক কাজ ছাড়া কিছুই নয়, আর পায়ের নীচে যেখানে অনন্ত, অসীম মহাকাশ। সামান্য বিচ্যুতি মানেই ওই মহাশূন্যে নিজেকে চিরদিনের মতো হারিয়ে ফেলা। স্পেস স্টেশনের নভশ্চররা এই দুঃসাহসিক কাজই করে থাকেন। স্পেস স্টেশনের কোথাও যান্ত্রিক ত্রুটি হলে তা মেরামতির জন্য অনেক সময় স্পেস ওয়াক করে যেতে হয় নভশ্চরদের। তাতে প্রাণের ঝুঁকি থাকে। এই যান্ত্রিক হাত অনায়াসেই নভশ্চরদের মুঠোতে নিয়ে সুরক্ষিত জায়গায় পৌঁছে দিতে পারবে।
২০০৭ সাল থেকে এমন যান্ত্রিক হাত তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। রোবোটিক আর্মকে দিয়ে মহাকাশে শূন্য মাধ্যাকর্ষণের মধ্যে কাজ করানো রীতিমতো চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার। সেই অসাধ্য সাধন করেছেন মহাকাশবিজ্ঞানীরা। ইএসএ-র ডিরেক্টর ডেভিড পার্কার বলছেন, মহাকাশযানে করে নভশ্চরদের স্পেস স্টেশনে নিয়ে আসছে অনেক দেশই। তাছাড়া বিভিন্ন স্পেস স্টেশনে যে নভশ্চররা থাকেন তাঁদের যাবতীয় রসদ নিয়ে পৃথিবী থেকে কার্গো স্পেসক্র্যাফ্ট প্রায়ই আসে এখানে। স্পেসক্র্যাফ্ট বা রকেট ল্যান্ড করাতে যে ঝক্কি পোহাতে হয় তা কমিয়ে দেবে এই যান্ত্রিক হাত। আর সবচেয়ে বড় সুবিধা হল যে কোনও দুর্ঘটনা রুখতে পারবে। মহাকাশ অভিযানে প্রাণের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে।