
শেষ আপডেট: 23 August 2021 14:21
কথা বলা পাখি বা ‘টকিং বার্ড’ এর অনেক প্রজাতিই আছে পৃথিবীতে। পক্ষীবিদরা বলেন, এই পাখিরা মানুষের নকল করতে পারে। অর্থাৎ মানুষের গলার স্বর, শব্দ, কথা বলার ধরন, উচ্চারণ কৌশল—সবকিছুই চট করে ধরে নিতে পারে। তার জন্য কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যও থাকে এই পাখিদের, যা অন্য পাখিদের থেকে তাদের আলাদা করে। যেমন, ইউরোপিয়ান স্টার্লিং (European Starling), মানুষের গলার স্বরের নকল করতে পটু। অ্যামাজন প্যারট, একলেটাস প্যারট, গ্রে প্যারট, প্যারাকিটস ইত্যাদি পাখিও বেশ সুন্দর কথা বলতে পারে। কাকাতুয়া তো আছেই, আর আছে ময়না বা হিল ময়না।
ময়না বা হিল ময়না যাদের বিজ্ঞানীরা বলেন Gracula religiosa, নিবাস দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এদের নানা প্রজাতি আছে, যেমন এনগ্যানো হিল ময়না, নিয়াস হিল ময়না, সাদার্ন হিল ময়না। পশ্চিমঘাটের নীলগিরি পর্বত্য অঞ্চলেও ময়নার দেখা মেলে। এরা কথা বলা ও সুন্দর স্বরে শিষ দেওয়ায় পারদর্শী।
এখন প্রশ্ন হল, এই ময়না পাখিরা কথা বলে কী করে, বা যে কোনও কথা বলা পাখিরা কীভাবে মানুষের নকল করতে পারে। মানুষের মতো ভোকাল কর্ড বা স্বরতন্ত্রী নেই পাখিদের। এরা শিষ দেয় বা আওয়াজ বের করতে পারে, গলার পেশি ও মেমব্রেন বা পর্দার সাহায্যে। একে বলে সিরিংস। এই সিরিংসের সাহায্যেই গলার পেশি সংকুচিত ও প্রসারিত করে শব্দ বের করতে পারে ময়নারা। ঠোঁট ও জিভের সাহায্যও নেয়। অনেক সময়েই দেখা যায়, শব্দ জুড়ে একটা বাক্যও তৈরি করে ফেলে। তবে সেটা সঠিক প্রশিক্ষণের ওপর নির্ভর করে।
পক্ষীবিদরা বলেন, ময়নার দল যেখানে ঝাঁকে ঝাঁকে থাকে, সেখানে তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে তীব্র আওয়াজ বা শিষের মতো শব্দ করে। এটাই তাদের কথোপকথের মাধ্যম। পুরুষ ও স্ত্রী ময়না উভয়েরই এই গুণ থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৩ রকমের শব্দ করতে পারে ময়নারা। পাহাড়ে বা জঙ্গলে থাকা পাখিরা এই শব্দ ও শিষের মাধ্যমেই ভাব বিনিময় করে, বিপদ সঙ্কেত দেয়। মানুষের পোষ্য হলে তবে কথা বলার ধরন শিখতে পারে। নিজেদের স্বভাবজাত গুণে মানুষের গলার আওয়াজ ও শব্দ উচ্চারণের ধরন শিখে নেয়, ফলে খুব দ্রুত কথা বলা শিখতে পারে।