দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাদ্যপণ্যের দাম বাড়ছে। ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্কে অবনতি হওয়ায় বেড়েছে অপরিশোধিত তেলের দাম। তা ছাড়া গত কয়েক মাস ধরে পেঁয়াজের আগুন দাম বাজারে। মূলত এই দু’টি কারণে ডিসেম্বরে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি হয়েছে ৭.৩৫ শতাংশ। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ভাবতেই পারেনি, পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি এত বেশি হতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতি বেঁধে রাখা গিয়েছে ৩.৭ শতাংশে। তা আগের বছরের তুলনায় সামান্য বেশি।
এনএসও-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী খাদ্যদ্রব্যের মুদ্রাস্ফীতিটাই উদ্বেগজনক। গত ডিসেম্বর মাসে তা ১৪.১২ শতাংশ হারে বেড়েছে। অথচ এক বছর আগে ২০১৮ সালের ডিসেম্বর মাসে তা ছিল -২.৬৫ শতাংশ।
শেষবার মুদ্রাস্ফীতির হার এতোটা চড়া ছিল পাঁচ বছর আগে। ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। তখন মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ৭.৩৯ শতাংশ। সেবার ডাল ও খাদ্যশস্যের মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১৫.৪৪ শতাংশ। মাছ মাংসের দাম বেড়েছিল ১০ শতাংশ হারে।
এরই পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অস্থিরতার পরিস্থিতি চাপ বাড়াচ্ছে। গত সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল পিছু ৭০ ডলারে পৌঁছে গিয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরের পরে তেলের দাম কখনই এত বাড়েনি। পরে তেলের দাম কিছু পরিমাণে কমেছিল বটে কিন্তু সেই অনুযায়ী পাইকারি বাজারে পণ্যের দাম কমেনি।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক ভেবেছিল, ভোগ্যপণ্যের মুদ্রাস্ফীতি হতে পারে দুই থেকে ছয় শতাংশ। গত ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের কর্তারা স্বীকার করেছেন, এত বেশি হারে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি হবে তাঁরা ভাবতেই পারেননি।
গত অক্টোবরে পাইকারি বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ছিল ৪.৬২ শতাংশ। নভেম্বরে তা বেড়ে হয় ৫.৫৪ শতাংশ। পিঁয়াজের দাম অত্যধিক বেড়ে যাওয়ায় খাদ্যপণ্যের বাজারে মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর শক্তিকান্ত দাস বলেন, খাদ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখার ওপরে আমরা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি।