দ্য ওয়াল ব্যুরো: একদিকে যখন দেশজুড়ে ভ্যাকসিনের সংকট নিয়ে কেন্দ্রকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে বিরোধীরা, ঠিক তখনই টিকাকরণ নিয়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলির ঘাড়ে দায় চাপাল স্বাস্থ্য মন্ত্রক।
কিছুদিন আগেই বিভিন্ন রাজ্যে ভ্যাকসিন অপচয় ও উদ্বৃত্ত ভ্যাকসিনের তালিকা সামনে আসে। বাংলা, কেরলের মতো রাজ্য কেন্দ্রের পাঠানো টিকা বাঁচালেও ঝাড়খণ্ড, রাজস্থান, মহারাষ্ট্রে ভ্যাকসিনের 'নেগেটিভ ওয়েস্টেজ' হয়েছে বলে সরকারের দাবি দাবি করা হয়।
এবার তাদের নিশানায় বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল। ৪ জুন স্বাস্থ্য মন্ত্রকের প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত মে মাসে দেশজুড়ে ৭.৪ কোটি টিকা বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার মধ্যে নার্সিংহোমগুলির ভাগে ১.৮৫ কোটি ডোজ বরাদ্দ ছিল। তার মধ্যে তাদের ১.২৯ কোটি ভ্যাকসিন পাঠানো হলেও আখেরে মাত্র ২২ লক্ষ ডোজ খরচ হয়েছে। অর্থাৎ, শতাংশের হিসেবে মোটে ১৭% ডোজই কাজে লেগেছে। বাকি টিকা এখনও অব্যবহৃত অবস্থায় জমা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একটা অংশ অবশ্য এর পেছনে সাধারণ নাগরিকদের অনীহাকেই দায়ী করেছেন। সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যখন বিনামূল্যে কোভিডের টিকা পাওয়া যাচ্ছে, তখন গাঁটের কড়ি খরচ করে বেসরকারি হাসপাতালের চৌকাঠ মারাতে চাইছেন না অনেকেই।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের গোড়াতেই বেসরকারি নার্সিংহোমগুলিতে ভ্যাকসিনেশনের মূল্যতালিকা বেঁধে দেয় নরেন্দ্র মোদীর সরকার। রুশ টিকা স্পটনিক ভি-র দাম ডোজপিছু ১ হাজার ১১৫ টাকা, কোভিশিল্ড ৭৮০ টাকা এবং কোভ্যাকসিন ১ হাজার ৪১০ টাকা স্থির করে কেন্দ্র৷ এর বেশি নেওয়া যাবে না বলে সতর্কও করা হয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রকের দাবি, সার্ভিস চার্জ কিংবা অন্যান্য ট্যাক্স ধরেই এই দাম রাখা হয়েছে। ফলে বাড়তি বিল ধরানোর কোনও প্রশ্নই নেই।