দ্য ওয়াল ব্যুরো: উনিশের ভোটের ৭ মাস বাকি। এখন থেকেই মানুষের মুড বোঝার চেষ্টা শুরু হয়ে গেল। পেশাদার সংস্থাকে দিয়ে বিজেপি, কংগ্রেস এরই মধ্যে সমীক্ষা চালাতে শুরু করে দিয়েছে। তার পাশাপাশি এ বার প্রশান্ত কিশোরও তাঁর সমীক্ষা প্রকাশ করে দিলেন।
তাঁর সমীক্ষার মোদ্দা ফলাফল হল,- গোটা দেশে জনপ্রিয়তার নিরিখে পয়লা স্থানে রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রাহুল গান্ধী। যদিও তিনি মোদীর খুব একটা ধারে কাছে পৌঁছচ্ছেন না! আর প্রশান্তের সমীক্ষা মতে জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে নিরিখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্থান আরও নীচে,পঞ্চম স্থানে।
‘ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটির ন্যাশনাল অ্যাজেন্ডা ফোরাম’ নামে প্রশান্ত কিশোরের একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারাই এই সমীক্ষা চালিয়েছে।
কে এই প্রশান্ত কিশোর? ২০১৪ সালে মোদীর ভোট কৌশলের ব্যাকরুম বয় ছিলেন তিনি। নরেন্দ্র মোদীর যাবতীয় প্রচারের নকশা এঁকে সেই প্রথম বার প্রচারের আলোয় এসেছিলেন প্রশান্ত। ঠিক তার পরেই বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী নীতীশ-লালু জোটের হয়ে ভোট প্রচারের ব্লু প্রিন্ট বানান প্রশান্ত কিশোর। ব্যাপক মোদী হাওয়া থমকে যায় বিহারের মাটিতে। এবং তা দেখে প্রশান্ত কিশোরের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেসও। ২০১৬ সালে বিধানসভা ভোটের আগে তপসিয়ায় তৃণমূলের পার্টি অফিসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে বৈঠকও করেছিলেন প্রশান্ত। যদিও তা শেষ পর্যন্ত দানা পাকেনি।
সেই প্রশান্ত কিশোরের সংস্থার সমীক্ষায় জনপ্রিয় রাজনীতিবিদ হিসেবে ৪৮ শতাংশ মানুষের সমর্থনে পয়লা নম্বর জায়গায় রয়েছেন নরেন্দ্র মোদী। দ্বিতীয় স্থানে সনিয়া-পুত্র থাকলেও নমোর তুলনায় রাগা-র জনপ্রিয়তা প্রায় ৩৭ শতাংশ কম। প্রশান্তদের সমীক্ষায় রাহুলের মার্কশিটে জুটেছে ১১.২ শতাংশ ভোট। ৯.৩ শতাংশ ভোট পেয়ে তিন নম্বরে রয়েছেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী তথা আম আদমি পার্টির নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়াল। চারে রয়েছেন অখিলেশ যাদব এবং পাঁচে মমতা। ওই সমীক্ষায় মমতার পক্ষে ভোট দিয়েছেন ৪.২ শতাংশ মানুষ।
সংস্থার দাবি, ৫৭ লক্ষ মানুষের মতামত নিয়ে এই সমীক্ষা চালানো হয়েছে। সারা দেশেই এই সমীক্ষা চালিয়েছে প্রশান্তের সংস্থা। অর্থনৈতিক, জাতিগত, ভাষাগত নানান অংশের মানুষের সঙ্গে কথা বলেই মূলত এই ধরনের সমীক্ষাগুলি হয়। পর্যবেক্ষকদের মতে, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে করা সমীক্ষাগুলি থেকে একটা আভাস মেলা সম্ভব। তবে তা কতটা সুচারু ভাবে করা হচ্ছে, স্যাম্পেল সাইজ কত ইত্যাদি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। তা ছাড়া তাঁদের মতে, রাজনীতি সম্ভাবনার খেলা। কখন কোন দিকে ঘুরে যাবে কেউ বলতে পারে না।