
শেষ আপডেট: 2 November 2018 11:34
তবে রক্ষনশীল ভারতীয় সমাজে অনেকদিন আগে থেকেই পর্ন দেখা চলে আসছিল। সেই ভিসিপির যুগ থেকে। তখন পর্নের নামটাই কেউ শোনেনি, বলা হতো 'ব্লু ফিল্ম'। তারপর ইন্টারনেটের যুগে হাতের মোবাইলেই চলে এল পর্ন। ইন্টারনেট ক্রমশ সস্তা আর সহজলভ্য হওয়ার জন্য শেষ দু' বছরে ভারতে পর্ন দেখার হার বহুগুণ বেড়ে গেছে। দেখা গেছে ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সী ভারতীয়রাই সবচেয়ে বেশি পর্ন ঘাঁটেন।
পর্ন ছবির গ্রাহকদের চাহিদার কথা মাথায় রেখে নানা পর্ন ওয়েবসাইটগুলি ইতিমধ্যেই সরকারে লাল ফিতে এড়াবার উপায়ও বার করে ফেলেছে। যেমন বিখ্যাত পর্ন সাইট 'পর্নহাব'। এই ওয়েবসাইটটির প্রচুর ভারতীয় গ্রাহক আছেন। যাঁরা প্রিমিয়াম মেম্বার, মানে এঁরা মোটা টাকা দিয়ে মেম্বারশিপ নিয়েছেন। এঁদের জন্যই পর্নহাব নামের সাইটটি Pornhub.net নামে একটি নকল সাইট তৈরি করেছে। আরও একটি সুপরিচিত পর্ন সাইট হল, Behance.net। এই সাইট আবার অন্য উপায় বার করেছে। তারা সুকৌশলে গ্রাহকদের জানিয়ে দিয়েছে যে মোবাইলে আলাদা অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করলেই মিলবে পর্ন ছবির দেখার সুযোগ।
পর্নসাইটগুলি যখন ঘুরপথে গ্রাহক টানার চেষ্টা চালাচ্ছে, তখন ভারতের বিভিন্ন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে ফোনের বন্যা বয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্টের পর পোস্ট আছড়ে পড়ছে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে। কারণ পর্নহাব, রেডিট, টাম্বলআর-সহ পঞ্চাশটি বড়সড় ওয়েবসাইট সরকারি লাল কার্ড দেখেছে, নেট নিউট্রালিটি বা প্রকারান্তরে পর্ন-এর হয়ে তদ্বির করার জন্য। ভারতীয় গ্রাহকরা চাইছেন, সরকার অবশ্যই চাইল্ড পর্ন , হিংসাত্মক পর্ন, রেপ পর্ন নিয়ে কড়া ভূমিকা নিন। কিন্তু সাধারণ বা অবিতর্কিত পর্ন সাইট যেমন পর্নহাব, এক্সভিডিও-এর মতো সাইটগুলিকে টার্গেট করা উচিত নয়।
পর্নহাবের ভাইস প্রেসিডেন্ট করী প্রাইস একই কথা বলেছেন। তিনি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, "ভারত সরকার ও ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডাররা পর্নহাবের মতো বড় সাইট বন্ধ করে দিচ্ছে। কিন্তু হাজার হাজার বিপজ্জনক পর্ন সাইট, যারা অবৈধ পর্ন দেখায় তাদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না। গোপনীয়তা রক্ষা করে সাবালকদের পর্ন দেখা নিয়েও ভারতের কোনও নির্দিষ্ট আইন নেই। এটাই প্রমাণ করছে ভারত সরকারের কাছে এই সমস্যার কোনও সমাধান নেই। আমাদের সাইটের মতো বিখ্যাত সাইটকে বলির পাঁঠা করা হচ্ছে"। মাদ্রাজ হাইকোর্টের আইনজীবী আর কে রাজাগোপাল বলেছেন, গ্রাহকরা কী দেখবেন বা কী দেখবেন না এটা গ্রাহকদের ওপরই ছেড়ে দেওয়া উচিত। তাঁর কথায় চাইল্ড পর্ন বা হিংসাত্মক পর্ন নিষিদ্ধ করাটা সার্বিকভাবে গ্রহণযোগ্য। কিন্তু নগ্নতা বা পর্ন নিষিদ্ধ করা বা নীতিপুলিশ হওয়া,সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারা অনুযায়ী আমাদের মত প্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।