দ্য ওয়াল ব্যুরো: হাসপাতালের বিল যখন মেটাচ্ছিলেন স্বামী, তখনও পর্যন্ত সব ঠিক ছিল। কিন্তু হাসপাতালের বাইরে পা রাখা মাত্রই বেঁকে বসেন সদ্যপ্রসূতি মা। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, স্বামীর সঙ্গে মোটেও ফিরবেন না। অটো দাঁড়িয়েই ছিল। নার্সের কোল থেকে সদ্যোজাত মেয়েকে নিয়ে নেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর মা। সকলকে কার্যত থতমত খাইয়ে, পুলিশ ডাকার হুমকি দিয়ে, অটোয় করে চলে যান তিনি। স্বামী হর্ষ ছেত্রী দাঁড়িয়ে থাকেন হাসপাতালের সামনেই। কিছু ক্ষণ পরে ফিরেও আসে অটো। জানা যায়, কাছেপিঠেই কোথাও ঘর ভাড়া করে রয়েছেন তিনি।
বুধবার সকালে গাঙ্গুলি বাগানের আইরিস হাসপাতালের সামনের দৃশ্যটা এ রকমই ছিল। দিন কয়েক ধরেই এই হাসপাতাল শিরোনামে আসছে একটি বিশেষ ঘটনার সৌজন্যে। হুগলির বাসিন্দা, ২১ বছরের এক তরুণী সন্তানের জন্ম দেওয়ার পরেই তিন ব্যক্তি হাসপাতালে এসে বাচ্চার পিতৃত্ব দাবি করেছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তো বটেই, রীতিমতো নাকানিচোবানি খেয়েছে পুলিশও। শেষমেশ সোমবার রাতে তরুণীকে ম্যারাথন জেরা করার পরে পুলিশ হাসপাতালকে জানায়, তিন জন দাবিদারের মধ্যে এক জন, হর্ষ ছেত্রীকে স্বামী ও সন্তানের বাবা বলে স্বীকার করেছেন তিনি। সেই মতো নথিও তৈরি করে হাসপাতাল।
সমস্ত নিয়মকানুন পূরণ করে, বিল মিটিয়ে স্ত্রী ও মেয়েকে হাসপাতাল থেকে নিতেও আসেন হর্ষ। কিন্তু তখনও কেউ জানেন না, শেষ মুহূর্তে জট বাড়িয়ে একা চলে যাবেন সদ্যপ্রসূতি মা!
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁদের তরফে আর কোনও তদন্ত বাকি নেই। এর পরে যদি ওই তরুণী তাঁর স্বামী হর্ষের সঙ্গে থাকতে না চান, তা হলে সেটা তাঁদের ব্যক্তিগত ব্যাপার। কিন্তু বাচ্চার পিতৃত্বের অধিকার দাবি করে যদি হর্ষ ছেত্রী আবারও কোনও অভিযোগ দায়ের করেন বা মামলা রুজু করেন, সে ক্ষেত্রে ফের আইনি পথেই এগোবে তদন্ত। তখন বাচ্চার ডিএনএ টেস্টের সাহায্য নিতে হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আগেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, মা ও সন্তানের সুস্থতা এবং নিরাপত্তাই তাঁদের প্রথম ও প্রধান বিচার্য বিষয়। সন্তানের বাবা কে, তাই নিয়ে তাঁরা কোনও রকম সিদ্ধান্ত নেবেন না।
হর্ষের দাবি, সোমবার রাতে পুলিশি জেরার পরে স্ত্রী তাঁকে ফোন করে বলেছিলেন, "২৪ তারিখ টাকা-পয়সা নিয়ে চলে এসো, আমায় ছুটি দেবে হাসপাতাল থেকে।" হর্ষ বলছেন, "আমি সেই মতোই এসেছিলাম আজ সকালে। আমি তো ভেবেছিলাম, সমস্ত জট মিটে গেছে। ও কেন আজ এমন করল, আমি জানি না। এখানে কোথায় ঘর ভাড়া করে রয়েছে, সেটাও জানি না।" হর্ষের অভিযোগ, তাঁর স্ত্রীয়ের টাকা-পয়সা প্রয়োজন বলেই হর্ষকে এসে বিল মেটানোর কথা বলেছিলেন তিনি। সেই কাজ হয়ে যেতেই ফের বেঁকে বসেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তাঁরা হর্ষ ছেত্রীর অভিযোগ পেয়ে তদন্ত শুরু করেছিল। হর্ষ নিজে সন্তানটির বাবা, এই মর্মে দীপঙ্কর পাল ও প্রদীপ রায় নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন হর্ষ। প্রদীপ রায়কে সঙ্গে করে এনে, তাঁকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দিয়ে হাসপাতালে এসে ভর্তি হয়েছিলেন তরুণী। তার পরে সন্তান জন্মানোর পরে হর্ষ এসে দাবি করেন তিনিই স্বপ্নার স্বামী এবং সন্তানের বাবা। বিয়ের কাগজপত্রও পুলিশকে দেখান তিনি। এর পরেই উদয় হন দীপঙ্কর পাল নামের আর এক যুবক, যিনি রীতিমতো চ্যালেঞ্জ করে পুলিশ ও হাসপাতালকে জানান, তিনিই বাচ্চাটির বাবা।
যদিও তরুণীর জবানবন্দি এবং হর্ষের দায়ের করা নথিকেই সব চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয় পুলিশ। বুধবার দীপঙ্কর বা প্রদীপের তরফে কোনও কিছুই জানা যায়নি।
আরও পড়ুন...
https://www.four.suk.1wp.in/kolkata-hospital-faced-an-unprecedented-situation-after-three-men-claiming-to-be-father-of-womans-newborn-girl-child/