
শেষ আপডেট: 21 July 2021 12:03
সাইবার বিশেষজ্ঞ বলছেন, ২০১৯ সালে এই পেগাসাস সফটওয়্যার তৈরি হয়। তখন হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও কলের মাধ্যমে ম্যালওয়্যার ঢোকানো হয়েছিল মোবাইলে। ১৪০০ জনের নম্বর হ্যাক করে গোপন তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়েছিল। হোয়াটসঅ্যাপে মিসড ভয়েস কল দিয়ে এই ম্যালওয়্যার ইনস্টল করে দেওয়া হত ফোনে। আর এখন হ্যাকারদের মূল নিশানা হল অ্যাপলের মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশন। আইফোনের আইমেসেজকেই টার্গেট করা হচ্ছে। গ্রাহকের আইফোনে ম্যালওয়্যার যুক্ত করে মেসেজ পাঠানো হচ্ছে। সেই আইমেসেজ ক্লিক না করলেও ম্যালওয়্যার ইনস্টল হয়ে যাচ্ছে ফোনে। যদি গ্রাহক মেসেজ না খুলে ডিলিটও করে দেন, তাহলেও এই সাঙ্ঘাতিক ম্যালওয়্যার ফোনের সিস্টেমে ঘুরতে থাকবে। হাতিয়ে নেবে ছবি, ভিডিও, অডিও, কললিস্ট, মেসেজ সহ যাবতীয় তথ্য, এমনকি পাসওয়ার্ডও।
সন্দীপ শুক্লর বক্তব্য, সিটিজেন ল্যাবে কয়েকটি পেগাসাস আক্রান্ত মোবাইলের পরীক্ষা করা হচ্ছে। কীভাবে এই সফটওয়্যার ফোনের সিস্টেমে ঢুকে পড়ছে তা না জানতে পারলে এর প্রতিরোধের উপায়ও অধরাই থেকে যাবে। সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এনএসও গ্রুপ এই সফটওয়্যার অন্য কোথাও থেকে কিনেছে নাকি নিজেরাই সবটা বানিয়েছে সেটাও এখন বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, প্রতিনিয়ত এই সফটওয়্যারে নতুন নতুন আপডেট হচ্ছে। আর এই কারণেই কম্পিউটার অ্যান্টিভাইরাসের পক্ষে এই ম্যালওয়্যারকে চিনে ওঠা সম্ভব হচ্ছে না। এইভাবে সাধারণ নাগরিকের ফোনে আড়ি পাতা দণ্ডনীয় অপরাধ বলে জানাচ্ছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, জঙ্গি ও অসামাজিক কার্যকলাপে নজর রাখতে পেগাসাস বানানো হয়েছে বলে শুরুতে জানিয়েছিল এনএসও গ্রুপ। কিন্তু জঙ্গিরা সাধারণত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না, তারা যোগাযোগ রাখতে স্যাটেলাইট ফোন বা হাই-এনক্রিপ্টেড ফোন ব্যবহার করে। আর পেগাসাস জনসাধারণের মোবাইল নম্বর টার্গেট করে আড়ি পাতা শুরু করে দিয়েছে।