দ্য ওয়াল ব্যুরো: কাশ্মীর নিয়ে চিন্তিত হলেও দেশের মাটিতে জঙ্গি কার্যকলাপের রাশ না টানায় আর্থিক নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে পাকিস্তান। তারা যে নিজেদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে বার বার ব্যর্থ হয়েছে, সে কথা বলেছে আন্তর্জাতিক সংস্থা ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (এফএটিএফ)। প্যারিসে রবিবার বৈঠক। এই বৈঠকেই আলোচনা হতে পারে পাকিস্তানকে নিয়ে। সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলিকে তারা আর্থিক মদত দিচ্ছে বলে প্রমাণ হয়ে গেলে এফএটিএফের কালো তালিকাভুক্ত হবে পাকিস্তান।
এখন এফএটিএফের ধূসর তালিকায় রয়েছে পাকিস্তান। কালো তালিকাভুক্ত হয়ে গেলে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যেমন ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড, বিশ্বব্যাঙ্ক প্রভৃতি থেকে ঋণ ও আর্থিক সহায়তা তারা পাবে না। ধূসর তালিকাভুক্ত হওয়ায় গত বছর থেকে বার্ষিক ১০,০০০ কোটি মার্কিন ডলার সাহায্য হারাচ্ছে পাকিস্তান। এবার কালো তালিকাভুক্ত হলে দেশের অর্থনীতি সামাল দেওয়া মুশকিল হবে পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের পক্ষে।
শিল্পসমৃদ্ধ সাত দেশের সংগঠন জি-৭ ১৯৮৯ সালে তৈরি করে এফএটিএফ। তাদের উদ্দেশ্য ছিল সঠিক নীতি নির্ধারণ করা ও অর্থ পাচার বন্ধ করা। জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক মদত দেওয়ার বিরুদ্ধে তারা সহমত হয় ২০০১ সালে। বর্তমানে ৩৭টি দেশ এই সংগঠনের সদস্য। ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত তারা বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করবে, যার মধ্যে রয়েছে পাকিস্তানের বিষয়টিও।
বর্তমানে এফএটিএফের প্রধানের পদে রয়েছে চিন। তারা পাকিস্তানের বন্ধু। তবে জঙ্গি সংগঠনগুলিকে যারা আর্থিক মদত দিচ্ছে তাদের কার্যকলাপ সমর্থন করা চিনের পক্ষে সম্ভব হবে না বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল। সদ্যসমাপ্ত ভারত সফরে এসে সন্ত্রাস দমনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। তাই স্ববিরোধিতা করা চিনের পক্ষে মুশকিল।
২৩ অক্টোবর এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ নিয়ে যে বৈঠক হয়েছিল তাতে পাকিস্তানের কাজকর্মে অসন্তোষ প্রকাশ করে এফএটিএফ। তারা জানিয়েছিল, জঙ্গি সংগঠনগুলিকে আর্থিক মদত দেওয়া নিয়ে যে ৪০টি মানদণ্ড স্থির করা আছে তার ৩২টিতেই ডাহা ফেল করেছে পাকিস্তান। বিরক্ত এফএটিএফ জানিয়ে দিয়েছিল, পাকিস্তান যদি নিজেকে না শোধরায় তা হলে তাকে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। মুম্বই হামলার মূল চক্রী হাফিজ সইদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের কোনও পদক্ষেপ না করা এবং যে দেশ জঙ্গিদের আর্থিক সহায়তা করে সেখানে কেউ বিনিয়োগের সাহস করবে না বলেও এফএটিএফের রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল।
https://www.four.suk.1wp.in/pujomagazine2019/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%9b%e0%a6%be/