
শেষ আপডেট: 20 June 2020 05:46
মূলত পাক সেনাবাহিনী এই ধরনের ড্রোন ব্যবহার করে বলে জানিয়েছে বিএসএফ। সাধারণত ভারতীয় সেনাঘাঁটির খুঁটিনাটি সম্পর্কে জানতেই আন্তর্জাতিক সীমানা পার করে ওই ড্রোন পাঠানো হয়। এছাড়াও জঙ্গি অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রেও এই একই ব্যবস্থা করা হয়।
বিএসএফের তরফে জানানো হয়েছে জঙ্গি অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে এমনিতেই কাঠুয়া জেলার কাছে এই হিরানগর সেক্টর বিখ্যাত। এখানকার বেশকিছু নদীপথের সঙ্গে সরাসরি যোগ রয়েছে পাকিস্তানের। তাই জঙ্গি অনুপ্রবেশের ক্ষেত্রে সুযোগ-সুবিধা পায় পাকিস্তান। সেই এলাকাতেই এই ড্রোন উড়তে দেখা যাওয়ায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
অন্যদিকে জানা গিয়েছে, কাঠুয়ার কাছে এই হিরানগর সেক্টর বরাবর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করেছে পাক সেনাবাহিনী। স্থানীয় একটি জঙ্গলের মধ্যে থেকে ধোঁয়া বেরোতে দেখে আন্দাজ করা হয়েছে যে সম্ভবত ফের সংঘর্ষ বিরতি লঙ্ঘন করেছে পাকিস্তানি সেনা।
মে মাসের শেষের দিকে জম্মু-কাশ্মীরের কাঠুয়া গ্রামের কাছে আন্তর্জাতিক সীমানা বরাবর খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল একটি পায়রার। তার পায়ে বাঁধা ছিল একটা রিংয়ের মত জিনিস। সেই আংটা বা রিংয়ের মধ্যে লেখা ছিল কয়েকটা সংখ্যা। যেন সাংকেতিক ভাষায় কোডের সাহায্যে কিছু তথ্য লেখা রয়েছে।
স্থানীয় গ্রামবাসীরাই প্রথম এই পায়রাটিকে দেখতে পান। তাঁরাই খবর দেন এলাকার থানায়। পুলিশ আসতেই গোটা ঘটনা সামনে আসে। অনুমান করা হয় পায়রাটিকে পাকিস্তান থেকে ট্রেনিং দিয়ে ভারতের ভূখণ্ডে পাঠানো হয়েছে চরবৃত্তি করার জন্য। হিরানগর সেক্টরের মানওয়ারি গ্রামের কাছে এই পায়রাটিকে উদ্ধার করা হয় গত ২৫ মে।
পায়রা উদ্ধারের পর কাঠুয়া এবং সংলগ্ন এলাকার লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। এর পিছনে কারা জড়িত এবং এই পায়রার পায়ে থাকা সাংকেতিক বার্তার সঙ্গে আগামী দিনের কোনও নাশকতা বা হামলার যোগ রয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখতে শুরু করেন তদন্তকারী আধিকারিকরা।
এই ঘটনার এক মাসের মধ্যেই ফের একই জায়গায় নজরে এল পাকিস্তানি ড্রোন। এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। ওই পায়রা এবং এই ড্রোনের মধ্যে কোনও যোগ রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।